লালমনিরহাট-২ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের ব্যালট ধানের শীষ প্রতীকের বান্ডিলে ভরে গণনা করা হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে ভোট পুনর্গণনার দাবি জানিয়েছেন জামায়াতের প্রার্থী আইনজীবী ফিরোজ হায়দার লাভলু। আজ শনিবার দুপুরে আদিতমারী উপজেলার সাপ্টিবাড়ি ইউনিয়নের গিলাবাড়ি গ্রামে নিজ বাসভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত প্রার্থী ফিরোজ হায়দার লাভলু বলেন, ‘আমার এজেন্টদের কাছ থেকে আগাম ফলাফল সিটে স্বাক্ষর করে নিয়েছে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা। ফলাফলের পরে যে শিট সরবরাহ করা হয়েছে তা ভিন্ন এবং এজেন্টদের স্বাক্ষর নেই। ভোট সংখ্যার অভাররাইটিং এবং কথায় লেখা হয়নি। দাঁড়িপাল্লার ব্যালট ধানের শীষের বান্ডিলে ভরে দেওয়া হয়েছে। এজেন্টদের আপত্তি থাকা সত্ত্বেও ধানের শীষের বান্ডিল গুনতে দেওয়া হয়নি।
ফিরোজ হায়দার লাভলু আরও বলেন, আদিতমারী উপজেলার সাপ্টিবাড়ি ইউনিয়নের দুড়ারকুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কেন্দ্রে গণভোটের ব্যালটের চেয়ে ১৬১টি ভোট বেশি কাস্ট দেখানো হয়েছে। তাঁর দাবি, এই অমিল গণনায় কারচুপির ইঙ্গিত দেয় এবং জনগণের রায় পরিবর্তন করা হয়েছে। এই ফলাফল তাঁরা প্রত্যাখ্যান করছেন। শুক্রবার রাতেই রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে তথ্য-উপাত্তসহ লিখিত আবেদন করা হয়েছে বলে জানান তিনি। আবেদনপত্রের অনুলিপি নির্বাচন সচিবসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে আদালতে যাওয়ারও ঘোষণা দেন তিনি।
পরাজিত এ প্রার্থী আরও অভিযোগ করেন, বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা এজেন্টের তালিকা দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন কেন্দ্রে গিয়ে প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন এবং সেখানেই ‘নীলনকশা’ করা হয়েছে। নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে তাঁদের নেতা-কর্মীদের বাড়িঘর ও মাদ্রাসায় হামলার ঘটনাও ঘটছে বলে দাবি করেন তিনি। এ বিষয়ে প্রশাসনের তেমন ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
একই দাবিতে শুক্রবার রাতে নিজ বাসভবনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন লালমনিরহাট-১ আসনের জামায়াত প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম রাজু। তিনিও ভোট পুনর্গণনার দাবিতে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেছেন।
এ বিষয়ে লালমনিরহাটের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক এইচ এম রকিব হায়দার বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি। আমরা তাঁদেরকে বলেছি, আমাদের কিছু করার নেই। তাঁদেরকে নির্বাচন কমিশনে যেতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।’