লালমনিরহাটের পাটগ্রামে পাচার করে আনা ১২টি ভারতীয় গরু ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ভোরে ভারতীয় সীমান্ত থেকে বাংলাদেশের চার কিলোমিটার অভ্যন্তরে একটি স্থান থেকে এসব উদ্ধার করা হয়। বিজিবির তথ্যমতে, উদ্ধার গরু ও মোটরসাইকেলের বাজারমূল্য প্রায় ১৪ লাখ ১০ হাজার টাকা।
বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দিবাগত রাতে ৬১ বিজিবি ব্যাটালিয়ন সদরের বিশেষ টহলদল নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছিল। ভোর সাড়ে ৪টায় ভারতীয় সীমান্ত থেকে বাংলাদেশের প্রায় চার কিলোমিটার ভেতরে পাটগ্রাম পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের রাবার ড্যাম এলাকায় ১২টি গরু দেখতে পায় বিজিবি। মালিকবিহীন এসব গরু ভারত থেকে পাচার করে আনা হয়েছে নিশ্চিত হওয়ার পর সেগুলো উদ্ধার করে বিজিবি।
একই দিন ভোর ৪টা ৪০ মিনিটে বুড়িমারী ইউনিয়নের সীমান্ত থেকে প্রায় এক কিলোমিটার বাংলাদেশের ভেতরে ধরলা সেতুর কাছে একটি মোটরসাইকেল মালিকবিহীন অবস্থায় দেখতে পান ধবলসুতি বিজিবি ক্যাম্পের টহল দলের সদস্যরা। পরে ভারত থেকে পাচার করে আনা মোটরসাইকেলটি শনাক্ত করে সেটি উদ্ধার করে ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, সীমান্তের শূন্যরেখা দিয়ে ভারত থেকে প্রায়ই বিভিন্ন পণ্য, গরু ও মাদকদ্রব্য চোরাচালান করছে পাচারকারীরা। সীমান্তের কাছে বিজিবির অবস্থান থাকলেও চোরাচালানের পণ্য আনার সময় তাঁরা (বিজিবি) এসব আটক করে না। মালামাল বাংলাদেশের অভ্যন্তর থেকে আটক করা হলেও রহস্যজনক কারণে চোরাকারবারিদের আটক করা হয় না।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ৬১ ব্যাটালিয়ন (তিস্তা-২)-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল শাহীনুল ইসলাম ১২টি গরু ও মোটরসাইকেল উদ্ধারের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘সীমান্তে বিজিবি কি হাতে হাত রেখে বসে থাকে যে, পাচার করার সময়ই ধরে ফেলবে? চোরাকারবারিদের লোক থাকে—বিজিবি কোনদিকে যায়, কোথায় থাকে তাঁরা সব জানতে পারে। এ কারণে সীমান্তে চোরাচালানের সময় কাউকে ধরা সম্ভব হয় না। এক হাজার চোরাচালানের ঘটনার মধ্যে হয়তো একজন বা দুজন চোরাকারবারিকে ধরা সম্ভব হয়।’
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাদেরও লোক (সোর্স) আছে বলেই বাংলাদেশর ভেতর থেকে পাচার করে আনা এসব মালামাল ধরা সম্ভব হচ্ছে।’