কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ‘পীরের’ আস্তানায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ এবং পীরকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনার পর পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আজ রোববার বেলা ১১টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন খুলনা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ জয়নুদ্দীন।
জানা গেছে, গত শনিবার দুপুরে উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের দারোগার মোড় এলাকায় ‘শামীম বাবার দরবার শরিফ’ নামে পরিচিত স্থাপনাটিতে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় নিহত আব্দুর রহমান ওরফে শামীম (৬৫) ওই দরবার শরিফের প্রধান ছিলেন। হামলায় আরও তিন অনুসারী—মহন আলী, জামিরুন নেছা ও জুবায়ের আহত হয়েছেন। তাঁরা স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
ঘটনার পর থেকে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশ, বিজিবি, সেনাবাহিনী ও র্যাব সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। উপজেলা প্রশাসন, জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় সংসদ সদস্যও ঘটনাস্থল ঘুরে দেখেছেন।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ জয়নুদ্দীন সাংবাদিকদের বলেন, ধর্ম অবমাননার ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দেশে প্রচলিত আইনের মাধ্যমে এর সুষ্ঠু বিচার হওয়া উচিত। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে সহিংসতা ঘটেছে, তা মোটেই কাম্য নয়। ভবিষ্যতে যাতে আইনশৃঙ্খলার অবনতি না ঘটে, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এলাকায় অবস্থান করছে। তিনি আরও বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তবে প্রয়োজন অনুযায়ী পুলিশ নিজ উদ্যোগে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
ঘটনার আগে প্রশাসনের কাছে গোয়েন্দা তথ্য থাকা সত্ত্বেও কেন কার্যকর ব্যবস্থা নিতে দেরি হলো—এমন প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত ডিআইজি বলেন, তথ্য পাওয়ার পরই পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। তবে এ বিষয়ে পুলিশের ব্যর্থতার দায় তিনি নেননি। এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি, তবে বিষয়টি নিয়ে পুলিশ কাজ করছে বলে জানান তিনি।
এদিকে বেলা ১টার দিকে দরবার শরিফের প্রধান শামীমের লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) হোসেন ইমাম জানান, মরদেহের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এর মধ্যে মাথায় একটি গভীর ক্ষত পাওয়া গেছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
নিহত আব্দুর রহমান ওরফে শামীম (৬৫) পীরের ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ তাঁর গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হচ্ছে। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পাঁচ শ বিঘার মাঠ এলাকার কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।
জানা যায়, জীবিতাবস্থায় তিনি উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের দারোগার মোড় এলাকায় তাঁর প্রতিষ্ঠিত ‘শামীম বাবার দরবার শরিফে’ই সমাহিত হতে চেয়েছিলেন। তবে নানা রাজনৈতিক ও সামাজিক জটিলতায় পরিবার তাঁকে গ্রামের বাড়িতে সমাহিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।