কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) একটি বিক্ষোভ মিছিলে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পুলিশের জেলা বিশেষ শাখার (ডিএসবি) এক সদস্যসহ এনসিপি ও এর অঙ্গসংগঠনের অন্তত ১০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলা শহরের থানা রোডে জামে মসজিদের পাশে এ ঘটনা ঘটে।
এনসিপির নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, স্থানীয় ছাত্রদল, যুবদল ও শ্রমিক দলের নেতা-কর্মীরা এ হামলা চালিয়েছেন। এর আগে বুধবার বিক্ষোভ মিছিল শেষে উপজেলা ছাত্রশক্তির সদস্যসচিব আযান আহমেদ শাওনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত ওই ছাত্রশক্তি নেতা বর্তমানে চিকিৎসাধীন। ওই হামলার প্রতিবাদে আজ বিকেলে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন এনসিপি নেতা-কর্মীরা।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, জাতীয় ছাত্রশক্তির উপজেলা সদস্যসচিব আযান আহমেদ শাওনের ওপর হামলার প্রতিবাদে সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ মিছিল করছিলেন। মিছিলের খবরে উপজেলা ছাত্রদল, যুবদল ও শ্রমিক দলের বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী লাঠিসোঁটা ও পাইপ নিয়ে আগে থেকে থানা রোডে পথরোধ করে অপেক্ষা করছিলেন। মিছিলটি তাঁদের কাছাকাছি পৌঁছালে তাঁরা একযোগে হামলা চালান।
হামলায় এনসিপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েন। এতে পুলিশের এক ডিএসবি সদস্যসহ এনসিপি, ছাত্রশক্তি ও যুবশক্তির অন্তত ১০ জন নেতা-কর্মী আহত হন বলে জানা গেছে।
আহতদের মধ্যে জেলা যুবশক্তির সিনিয়র সেক্রেটারি তাওহীদ হাসান শান্ত, ফুলবাড়ী উপজেলা সিনিয়র সদস্যসচিব রাজু, ছাত্রশক্তির জেলা আহ্বায়ক জাহিদ হাসান, জেলা সদস্যসচিব সাদিকুর রহমান, নাগেশ্বরী উপজেলা যুবশক্তির সভাপতি রবিউল ইসলাম, সহসভাপতি আতিকুর রহমান এবং ছাত্রনেতা মেহেদী হাসানসহ অন্তত ৯ জন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। গুরুতর আহত ৪ জনকে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
হামলায় পুলিশের ডিএসবি সদস্য ফেরদৌসও মারধরের শিকার হন।
ঘটনার পরপর হামলার একটি ভিডিও ক্লিপ সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এনসিপির স্থানীয় নেতা-কর্মী ও উপজেলার বাসিন্দাদের দাবি, ভিডিও দেখে হামলায় অংশ নেওয়া বেশ কয়েকজনকে চিহ্নিত করা গেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলায় অংশ নেওয়াদের মধ্যে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রেজাউল ইসলাম রেজা, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ রানা, যুগ্ম আহ্বায়ক মিঠুন চন্দ্র, ফুলবাড়ী ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মহেশ্বর রায় শুভ, সদর ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক আল আমিন হক নিরব, যুবদল নেতা রফিকুল, সিরাজুল ইসলাম সেরা এবং শ্রমিক দলের নয়ন মিয়াসহ আরও কয়েকজনকে দেখা গেছে।
তবে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রেজাউল ইসলাম রেজা দাবি করেছেন, এনসিপি নেতা-কর্মীরা তাঁদের এক কর্মীর ওপর হামলা করেন। এরপর এনসিপি নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে এগিয়ে এলে তাঁদের ওপরও হামলার ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে ছাত্রদলের ৪ জন আহত হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
জেলা এনসিপির আহ্বায়ক মুকুল মিয়া বলেন, ‘আমাদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ মিছিলে ছাত্রদল-যুবদল হামলা করেছে। এতে অন্তত ১৫-২০ জন আহত হয়েছে। আমরা তাদের চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিয়ে ব্যস্ত রয়েছি। এ নিয়ে পরবর্তী সময়ে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহমুদ হাসান নাঈম বলেন, ‘ঘটনার পর বিএনপি ও এনসিপির জেলা নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থলে এসেছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।’