বাল্যবিবাহ নিবন্ধনের অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পাঁচগাছি ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজি) মো. হোসাইন আহম্মেদের নিবন্ধন লাইসেন্স বাতিল করেছে সরকার। একই সঙ্গে তাঁর নিবন্ধন এলাকা শূন্য ঘোষণা করে দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্তকে প্রতিপক্ষের ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত কাজি হোসাইন আহম্মেদ। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন তিনি।
মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ২০২৪ সালের ২০ অক্টোবর মো. হোসাইন আহম্মেদ মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) বিধিমালা, ২০০৯-এর বিধি ২৩ (ক) লঙ্ঘন করে একটি বাল্যবিবাহ নিবন্ধন করেন। বিষয়টি তদন্তে প্রমাণিত হলে এটিকে একই বিধিমালার বিধি ১১ অনুযায়ী গুরুতর অসদাচরণ হিসেবে গণ্য করা হয়। এরপর কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হলেও সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হন তিনি। ফলে সরকার তাঁর নামে ইস্যুকৃত নিকাহ রেজিস্ট্রারের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়।
প্রজ্ঞাপনে সংশ্লিষ্ট নিকাহ নিবন্ধন এলাকা শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে। সেখানে সর্বোচ্চ ১২০ দিনের জন্য পার্শ্ববর্তী এলাকার একজন নিকাহ রেজিস্ট্রারকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সদ্য সাবেক কাজি হোসাইন আহম্মেদের কাছ থেকে বালাম বইসহ নিকাহ নিবন্ধন-সংক্রান্ত সব নথিপত্র দ্রুত বুঝে নিতে জেলা রেজিস্ট্রারকে (কুড়িগ্রাম) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) বিধিমালা, ২০০৯ অনুযায়ী পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা রেজিস্ট্রার ও কুড়িগ্রাম সদর সাব-রেজিস্ট্রারকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত হোসাইন আহম্মেদ বলেন, ‘সরকার তো সরেজমিন তদন্ত করেনি। যে বিয়ে নিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে সেটি ওই মেয়ের দ্বিতীয় বিয়ে ছিল। তাঁর আগে বিয়ে হয়েছিল এবং সেটা তালাক হয়েছিল। দ্বিতীয় বিয়ের সময় মেয়েটির বাবা আমাকে যে নথিপত্র দিয়েছিল তাতে তাঁর বয়স ১৮ বছর ৩ মাস ছিল। তবে আমি বিষয়টি যাচাই করতে পারিনি। পরে জানি যে তাঁর ১ মাস ১৫ দিন বয়স কম ছিল। এ ঘটনায় প্রতিপক্ষ ষড়যন্ত্র করে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়ে নিবন্ধন বাতিল করিয়েছে। আমি এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি।’
কুড়িগ্রাম জেলা রেজিস্ট্রার মো. রুহুল কুদ্দুস বলেন, ‘বিষয়টি আমি আন-অফিশিয়ালি জেনেছি। এখনো সরকারিভাবে চিঠি পাইনি। পেলে বিস্তারিত বলতে পারব।’