২৫ বছরের জমানো সঞ্চয়ের টাকা দিয়ে ১২০ ফুট দৈর্ঘ্যের কাঠের সেতু নির্মাণ করে প্রশংসায় ভাসছেন আব্দুল করিম নামের এক ব্যক্তি। কখনো ভ্যান চালিয়ে, দারোয়ানের চাকরি ও কুলির কাজ করে যা আয় হতো; তার কিছু অংশ জমিয়ে এই কাজ করেন তিনি। সেতু নির্মাণে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেয়েছে স্থানীয় লোকজন।
কুড়িগ্রামের উলিপুর পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের জোনাইডাঙ্গা এলাকায় কাঠের সেতুটি ১৭ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। সেতুটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘আব্দুল করিম সেতু’।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উলিপুর রেলস্টেশনের পাশের একটি ঝুঁকিপূর্ণ রেলসেতু দিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচল করতে হতো। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খাওনার দরগাহ, জোনাইডাঙ্গা, সরদারপাড়া, তবকপুর, ভদ্রপাড়া, মন্ডলপাড়া, বলদিপাড়া, কাঠাখালী, রেলস্টেশন, মুন্সিপাড়াসহ ১০-১৫ গ্রামের ২৫-৩০ হাজার সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, রোগী ও পথচারীরা যাতায়াত করতেন। সেতুটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার আশঙ্কা ছিল। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, রোগী ও শ্রমজীবী মানুষের জন্য এটি ছিল বড় দুর্ভোগের কারণ। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের কষ্ট দেখে মানবতার হাত বাড়িয়ে দেন আব্দুল করিম (৪৫)। তিনি জোনাইডাঙ্গা এলাকার ফয়জার আলীর ছেলে। আব্দুল করিম সঞ্চয়ের জমানো টাকাসহ প্রায় ৪ লাখ টাকা দিয়ে কাঠের সেতু বানিয়েছেন। আব্দুল করিমের এই কাজে প্রশংসা কুড়াচ্ছেন উপজেলাজুড়ে।
এলাকাবাসী রিপন মিয়া, শাহীন মন্ডল, বিপ্লব মজুমদারসহ অনেকে জানান, এই পথে চলাচল ছিল অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। ঝুঁকি নিয়ে রেলসেতুর ওপর দিয়ে চলাচল করতে হতো। আব্দুল করিম নতুন কাঠের সেতু নির্মাণ করে দেওয়ায় বর্তমানে এলাকাবাসীর যাতায়াত অনেক সহজ ও নিরাপদ হয়েছে। অনেক মানুষ উপকৃত হচ্ছে। একজন সামান্য দিনমজুর হয়ে তাঁর এই কাজ সত্যিই প্রশংসনীয়।
এ বিষয়ে আব্দুল করিম বলেন, ‘প্রায় দিন এসে দেখতাম মানুষ কষ্ট করে রেলের সেতুর ওপর দিয়ে চলাচল করছে, অনেক সময় পড়েও যাচ্ছে। জনপ্রতিনিধিরা এলেও কেউ উদ্যোগ নেননি। মানুষের কষ্ট দেখে আমি ২৫ বছর ধরে কখন ভ্যান চালিয়ে, দারোয়ানের চাকরি করে এবং কুলির কাজ করে যা আয় হতো, তার কিছু অংশ জমিয়ে রাখতাম। সেই জমানো দেড় লাখ টাকা দিয়ে প্রথম কাজ শুরু করি। টাকা কম হওয়ায় নিজের শখের বাইক, ছাগলসহ অন্যান্য জিনিস বিক্রি করে এবং ঋণ করে প্রায় ৪ লাখ টাকা দিয়ে এই সেতু বানিয়েছি।’
উলিপুর পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর জিহাদ আলী বলেন, ‘আব্দুল করিম নিজস্ব অর্থায়নে কাঠের সেতু তৈরি করায় তাঁকে সাধুবাদ জানাই। সমাজে অনেক বৃত্তবান ব্যক্তি থাকলেও মানুষের কষ্ট দেখে আব্দুল করিমের এগিয়ে আসা প্রশংসনীয়।’