দুই বছর বিরতি দিয়ে আবার কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার দুর্গাপুর উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে পশুর হাট বসানো হয়েছে। গতকাল শুক্রবার দুপুর থেকে মাঠে পশু বেচাকেনা করতে দেখা গেছে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অভিযোগ, ইজারাদার ও প্রধান শিক্ষক উৎপল কান্তি সরকার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ‘অনুমতি নিয়েছেন’ দাবি করে মাঠে হাট বসিয়েছেন। তবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এ টি এম আরিফ বলেছেন, তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না।
এর আগে ২০২৪ সালে গণ-অভ্যুত্থানের পর শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে স্কুলের মাঠ থেকে পশুর হাট সরাতে বাধ্য হন প্রধান শিক্ষক। সেই থেকে দুর্গাপুর হাটের আলী কালি মার্কেটের পেছনের মাঠে পশুর হাট বসে। কিন্তু দুই বছর যেতে না যেতে ফের স্কুলের মাঠে পশুর হাট বসানো শুরু হয়েছে। প্রশাসন জানলেও স্কুলমাঠে হাট বন্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
তারও আগে স্কুলমাঠে পশুর হাট বসানো এবং এসএসসি পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র বাবদ টাকা আদায়ের অভিযোগে ২০২৪ সালের মে মাসে প্রধান শিক্ষক উৎপল কান্তি সরকারের এমপিও স্থগিত করে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।
সরেজমিন স্কুলমাঠে দেখা যায়, শত শত গরু-ছাগল বিক্রির জন্য হাটে আনা হয়েছে। মাঠে গোবর-মূত্র সব একাকার।
জানতে চাইলে ইজারাদার আবেদ আলী সরদার বলেন, ‘স্কুল কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে মাঠে হাট বসানো হয়েছে। ঈদ উপলক্ষে কয়েকটা হাট এখানে বসানো হবে। যদি আইনের কথা বলেন তাহলে ঠিক হয় নাই। কিন্তু বহু বছর ধরে এটা চলে আসছে। আপনি একসময় আসেন, বসে কথা বলা যাবে।’
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উৎপল কান্তি সরকার মোবাইল ফোনের বলেন, ‘ঈদ উপলক্ষে হাট বসানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে।’ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার লঙ্ঘন প্রশ্নে নীরব থাকেন প্রধান শিক্ষক। এরপর সংযোগ কেটে দেন।
ইউএনও এ টি এম আরিফ বলেন, ‘স্কুলমাঠে অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা জেলা প্রশাসনের মতামত জানতে চেয়েছি। কিন্তু এখনো কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। দুর্গাপুর স্কুলমাঠের ইজারাদার জানিয়েছেন তিনি স্কুল কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে মাঠে পশুর হাট বসিয়েছেন। এ ব্যাপারে আমার কিছু জানা নেই।’