খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) শিক্ষার্থী মৌমিতা হালদারের মৃত্যুর ঘটনায় তাঁকে ধাক্কা দেওয়া প্রাইভেট কারের চালক মো. আহাদ শেখ সৈকতকে (২৬) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আজ সোমবার (৬ এপ্রিল) বিকেলে আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। খুলনা মহানগরীর অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ মার্চ সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ডিসিপ্লিনের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী মৌমিতা হালদার তাঁর বাবার সঙ্গে রিকশাযোগে যাচ্ছিলেন। তাঁরা খুলনা সদর থানার নগর ভবনের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় জেলা পরিষদের সামনে পাকা সড়কে পৌঁছালে পেছন দিক থেকে একটি বেপরোয়া গতির প্রাইভেট কার রিকশাটিকে ধাক্কা দেয়।
এতে মৌমিতা রিকশা থেকে পড়ে গিয়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান। পরে তাঁকে দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাত ৭টা ৫০ মিনিটের দিকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় ২ এপ্রিল খুলনা সদর থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। পরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই দেবব্রত বিশ্বাস ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে অভিযুক্ত গাড়িটি শনাক্ত করেন।
এরপর ৩ এপ্রিল দুপুর ১২টার দিকে খুলনা সদর থানার করোনেশন স্কুলের পেছনে কাজী আমিনুল হকের বাড়ির নিচতলার গ্যারেজ থেকে একটি নীল রঙের টয়োটা (রেজিস্ট্রেশন নম্বর খুলনা মেট্রো-গ-১১-০৮৩৭) উদ্ধার করে জব্দ করা হয়।
এর ধারাবাহিকতায় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গতকাল রোববার (৫ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টার দিকে প্রাইভেট কারটির চালক মো. আহাদ শেখ সৈকতকে খুলনা সদর থানার হাদিস পার্কের উত্তর গেট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
জানতে চাইলে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) তাজুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া প্রাইভেট কারটির চালক মো. আহাদ শেখ সৈকতকে আজ আদালতে পাঠিয়ে তিন দিনের রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়। কিন্তু আদালতে আজ রিমান্ডের শুনানি হয়নি। তাঁকে খুলনা জেলা কারাগারের পাঠানো হয়েছে।