ঝিনাইদহে বোনকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় মো. মিরাজ উদ্দিন (২৭) নামের এক যুবককে পিটিয়ে আহত করেছে বখাটেরা। গতকাল মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) এ ঘটনা ঘটে। উত্ত্যক্তের শিকার কিশোরী এ ঘটনায় একজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনের বিরুদ্ধে ঝিনাইদহ সদর থানায় অভিযোগ করেছেন।
আহত মিরাজ উদ্দিনকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি সদর উপজেলার হলিধানী ইউনিয়নের বাশেরদাইড় গ্রামের মৃত আয়নাল হকের ছেলে। মিরাজ উদ্দিন পেশায় একজন ভ্যানচালক।
পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে গতকাল বিকেলে নবদোয়ার মেলায় নিজের ছোট বোন ও চাচাতো বোনকে নিয়ে নিজের ভ্যানে করে ঘুরতে যান ওই যুবক।
হাসপাতালে মিরাজ উদ্দিন বলেন, ‘আমার নিজের ভ্যানে করে আমার ছোট বোন ও দুই চাচাতো বোনকে নিয়ে নবদোয়ার মেলায় ঘুরতে গিয়েছিলাম। মধুহাটি ইউনিয়নের নওদাপাড়া গ্রামের শিহাব নামের এক বখাটে বারবার আমার বোনের গায়ে ধাক্কা দেয় এবং শরীরে স্পর্শ করার চেষ্টা করে। আমরা যেখানেই যাচ্ছিলাম, শিহাব সেখানে গিয়ে আমার বোনকে উত্ত্যক্ত করতে থাকে। একপর্যায়ে আমি তাকে বলি—‘‘তোমার বাড়িতে কি মা-বোন নেই। সেই কখন থেকে আমাদের এমন করেই যাচ্ছ।’’ এ কথা বলার পরে শিহাব এলাকার আরও ১০ থেকে ১২ জনকে ডেকে এনে আমাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। মেলায় আগত দর্শনার্থীরা সহযোগিতা করে আমাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।’
ভুক্তভোগী কিশোরী জানায়, ‘আমি লেখাপড়া করি। আমাদের বাড়ি থেকে পাঁচ থেকে ছয় কিলোমিটার দূরে এই মেলা বসে। পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে আমার ভাইয়ের সঙ্গে আমি ও আমার দুই চাচাতো বোন মেলায় ঘুরতে গিয়েছিলাম। এই ছেলেকে আমি আগে কখনো দেখিনি। মেলায় ঘোরার সময় সে ইচ্ছা করে আমার গায়ে ধাক্কা ও স্পর্শ করার চেষ্টা করছিল। আমার ভাই এটা খেয়াল করলে তার প্রতিবাদ করে। এতেই ওই ছেলে আরও লোকজন ডেকে এনে আমার ভাইকে পিটিয়েছে। আমরা চিৎকার করে কাঁদলে আশপাশের লোকজন এসে তাদের হাত থেকে আমার ভাইকে রক্ষা করে। আমি বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ করেছি।’
ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সামসুল আরেফিন বলেন, ‘এই ঘটনা শুনেছি। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেব।’