খুলনায় দুই মাদক সেবনকারীকে ছাড়িয়ে নিতে থানায় এসে গ্রেপ্তার হলেন নগরীর ১৮ নম্বর ওয়ার্ড শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. মোস্তফা শেখ দুলাল ও তাঁর সহযোগী মো. শরিফুল ইসলাম। গতকাল শনিবার রাতে নগরীর সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় এ ঘটনা ঘটে। পরে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ ও সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে মোস্তফা শেখ দুলালকে শ্রমিক দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
সোনাডাঙ্গা থানা-পুলিশ সূত্র জানায়, গতকাল দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে মাদকবিরোধী অভিযান চলাকালে মাদক সেবনরত অবস্থায় মো. পারভেজ শেখ ও মোহাম্মদ আব্দুল্লাহকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পুলিশের দাবি, রাত পৌনে ১টার দিকে গ্রেপ্তার দুজনকে ছাড়ানোর জন্য মদ্যপ অবস্থায় মো. মোস্তফা শেখ দুলাল, মো. শরিফুল ইসলাম ও অজ্ঞাতনামা আরও দুই-তিনজন সোনাডাঙ্গা থানায় যান। সেখানে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টা করলে পুলিশ তাঁদের বাধা দেয়।
সোনাডাঙ্গা থানায় কর্মরত সহকারী পরিদর্শক (এসআই-নিরস্ত্র) নাদিম মাহমুদের সঙ্গে দেখা করে মোস্তফা শেখ দুলাল গ্রেপ্তার দুজনকে ছাড়িয়ে নেওয়ার প্রস্তাব দেন বলে জানায় পুলিশ। এতে এসআই নাদিম মাহমুদ রাজি না হলে মোস্তফা শেখ দুলাল ও শরিফুল ইসলাম কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের চাকরিচ্যুত করার হুমকিসহ অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন। পরে পুলিশ তাঁদের গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারের পর মোস্তফা শেখ দুলাল ও শরিফুল ইসলামকে চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রিজন সেলে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তাঁরা সেখানে চিকিৎসাধীন আছেন।
জানতে চাইলে সোনাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, `শনিবার দিবাগত রাতে মাদক সেবনরত অবস্থায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করার পর মোস্তফা শেখ দুলাল ও তার সহযোগী শরিফুল ইসলাম থানায় এসে প্রভাব খাটিয়ে তাদের ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। তখন তারাও মদ্যপ অবস্থায় ছিল। আর মদ্যপ অবস্থায় থাকলে তারা কী ধরনের আচরণ করতে পারে সে-টা তো বোঝেন। পরে তাদের গ্রেপ্তার করে চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রিজনসেলে ভর্তি করা হয়েছে।'
আজ রোববার এক বিবৃতিতে মহানগর শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. শরিফুল ইসলাম টিপু জানান, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগে মোস্তফা শেখ দুলালকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ শ্রমিক দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।