আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বাগেরহাট ও খুলনা জেলায় দিনব্যাপী সরকারি সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী। এ সফরে তিনি দুই জেলায় একাধিক উন্নয়ন ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে খুলনা ও বাগেরহাটে নেওয়া হয়েছে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাব্যবস্থা। ইতিমধ্যে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি)-৬ বোমা ডিসপোজাল টিম ও ডগ স্কোয়াড নিরাপত্তার দায়িত্বে কাজ শুরু করেছে।
এসআরবি-৬-এর অধিনায়ক নিস্তার আহমেদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তায় টহল জোরদার করা হয়েছে। সাদা পোশাকে সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এসআরবির বোমা ডিসপোজাল টিম ও ডগ স্কোয়াডও কাজ শুরু করেছে। সব মিলিয়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. সাজ্জাদুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে চার স্তরের নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে। নগরজুড়ে পুলিশের চেকপোস্ট বসানোসহ টহল বাড়ানো হয়েছে। প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশ মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন এবং গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে।
খুলনা জেলা পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুক জানান, গত মঙ্গলবার নিরাপত্তাবিষয়ক বৈঠকে দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী তাঁরা কাজ করছেন। ইতিমধ্যে রূপসার কুদির বটতলা থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রীর চলাচলের সড়কগুলো পরিদর্শন করা হয়েছে। সফর নির্বিঘ্ন করতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি
সফরসূচি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী নিজ বাসভবন থেকে সড়কপথে তেজগাঁও বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হবেন। সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে সেখান থেকে হেলিকপ্টারে বাগেরহাটের মোংলা বন্দরের উদ্দেশে যাত্রা করবেন।
সকাল ১০টায় মোংলা বন্দরে পৌঁছে ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ ও চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের (সিআরসিসি) মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন এবং শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। এরপর সকাল সাড়ে ১০টায় মোংলা বন্দরের সুবিধাদি সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় দুটি কনটেইনার জেটি নির্মাণ এবং আনুষঙ্গিক সুবিধাদি উন্নয়নকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।
বন্দর এলাকার কর্মসূচি শেষে বেলা ১১টা ১৫ মিনিটে সড়কপথে হজরত খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজার শরিফের উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী। দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে মাজার প্রাঙ্গণে পৌঁছে জিয়ারত করবেন।
বেলা ১টা ১৫ মিনিটে মাজার শরিফ থেকে সড়কপথে খুলনা শহরের উদ্দেশে যাত্রা করবেন। বেলা ২টা ১৫ মিনিটে খুলনা সার্কিট হাউসে পৌঁছে সেখানে কিছু সময় বিরতি নেবেন।
এরপর বেলা ৩টায় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে শিশু-কিশোরদের ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণে খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে আয়োজিত ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস (সিজন-২)’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।
বিকেল সাড়ে ৪টায় হেলিপ্যাড থেকে হেলিকপ্টারে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী। বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে তাঁর ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে বাগেরহাট ও খুলনা জেলা প্রশাসন এবং বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
এদিকে বিএনপির দলীয় সূত্র জানিয়েছে, সড়কপথে যাত্রার সময় প্রধানমন্ত্রী রূপসার কুদির বটতলা ও নগরীর ডাকবাংলো মোড়ে গাড়ি থামিয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দিতে পারেন।