আমাদের দেশে দুর্লভ কয়েকটি ফুলের মধ্যে অন্যতম একটি হলো ক্যাসিয়া জাভানিকা। বাংলায় যার নাম লাল সোনাইল। তবে এই ফুলের দেখা মিলছে খাগড়াছড়ি সদরের বিভিন্ন স্থানে। সবুজ পাতার ওপরে ফুটে থাকা গোলাপি ও গাঢ় লাল রঙের এই ফুল পাহাড়ে মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে।
গ্রীষ্মের খরতাপের মধ্যে সবুজ গাছগাছালি আর রংবেরঙের ফুলে সেজেছে খাগড়াছড়ি শহর। কৃষ্ণচূড়া, জারুল, সোনালুসহ নানা ধরনের ফুলে ভরে গেছে চারপাশ। এসবের মধ্যে অন্যতম হলো লাল সোনাইল, যার বৈজ্ঞানিক নাম ক্যাসিয়া জাভানিকা। এর আদি নিবাস দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়। সারা পৃথিবীতে উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চলের বাগানে উদ্ভিদ হিসেবে এর জন্ম হয়। খাগড়াছড়িতে এপ্রিলের মাঝামাঝিতে এই ফুল ফোটে। ক্যাসিয়া জাভানিকা দ্রুত বর্ধনশীল। একে লাল সোনাইল বলা হলেও ফুলটির মধ্যে গোলাপি রঙের আভাই বেশি। দৃষ্টিনন্দন সৌন্দর্যের পাশাপাশি নানা ভেষজ উপকারিতাও রয়েছে ক্যাসিয়া জাভানিকার। এর পাশাপাশি এই গাছের ছাল ব্যবহার করা হয় ট্যানারি শিল্পে।
খাগড়াছড়ির ঠাকুরছড়া এলাকার প্রজ্জ্বল রোয়াজা জাগরণ পাঠাগার ও ঠাকুরছড়া শিবমন্দির প্রাঙ্গণে বেশ কয়েকটা ক্যাসিয়া জাভানিকা চারা রোপণ করেছেন। তিন বছর ধরে এসব গাছে ফুল ফুটছে। তিনি বলেন, ‘চারা ঢাকা থেকে সংগ্রহ করেছ। তিন বছর ধরে ফুল ফুটছে। ফুলের সমাগম দেখে তখন গাছ লাগানো সার্থকতা অনুভব করি।’ পথচারীরা এক মুহূর্তের জন্য হলেও থমকে দাঁড়ান আর ফুলের সৌন্দর্যে মোহিত হন। ফুলগাছের সঙ্গে ছবি তুলতে ভুল করেন না কেউ।
চার বছর আগে খাগড়াছড়ি উপবিভাগীয় প্রকৌশলীয় কার্যালয়ে ক্যাশিয়া জাভানিকার চারা রোপণ করেছিলেন বর্তমান রাঙামাটি সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা। এ ছাড়া তিনি খাগড়াছড়ি সদরের ধর্মপুর আর্য্য বনবিহার, অপরাজিতা বৌদ্ধবিহারসংলগ্ন এলাকা, নিউজিল্যান্ড এলাকা, মহিলা কলেজ সড়ক, বটতলী সড়কসহ বিভিন্ন স্থানে এই ক্যাশিয়া জাভানিকার চারা রোপণ করেছিলেন। সব গাছ এখন ফুলে ফুলে ভরে উঠেছে।
রাঙামাটি সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা বলেন, ছাতার মতো ছড়িয়েছে গাছের ডালাপালা। গাছজুড়ে ফুটেছে ফুল। নতুন ধরনের এ ফুল প্রকৃতিপ্রেমীদের মুগ্ধ করছে। তিনি বলেন, ফুলের রং গোলাপি হওয়াতে দূর থেকেই মানুষের নজর কেড়ে নেয় এটি। সাধারণত সারা দিন রোদ পাওয়া যায় এমন স্থানে লাগালে ভালো ফুল পাওয়া যায়।
জিরোমাইলে অপরাজিতা বৌদ্ধবিহারসংলগ্ন এলাকায় ফুল দেখতে আসা সুচরিতা ত্রিপুরা ও আরাফাত ইসলাম বলেন, ‘ক্যাসিয়া জাভানিকা খুবই সুন্দর ফুল। ফুলের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে ওই গাছটির নিচে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকি আমরা। এর রূপ দেখে যেন সব ক্লান্তি দূর হয়ে যায়।’
প্রকৃতিবিষয়ক লেখক মোকারম হোসেন বলেন, ক্যাসিয়া জাভানিকা ফুল, পাতা বেশ নান্দনিক। এ ফুলের সৌন্দর্যে যেমন সবার মন জয় করছে, অন্যদিকে নানা গুণে ভরপুর এই দুর্লভ উদ্ভিদ।
খাগড়াছড়ি হর্টিকালচার সেন্টারের খেজুরবাগান উপসহকারী উদ্যান কর্মকর্তা সুজন চাকমা বলেন, ক্যাসিয়া জাভানিকা বিদেশি একটা উদ্ভিদ। কয়েক বছর ধরে খাগড়াছড়ির বনবিহারসহ বিভিন্ন স্থানে দেখা যাচ্ছে। বাসাবাড়িসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠারে সামনে লাগালে সৌন্দর্য কয়েক গুণ বেড়ে যায়।