হোম > সারা দেশ > খাগড়াছড়ি

গত বছরের কোরবানির পশুর চামড়া এখনো অবিক্রীত, বিপাকে মাদ্রাসাগুলো

মানিকছড়ি (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি 

এক বছর ধরে মাদ্রাসায় সংরক্ষণ করে রাখা কোরবানির পশুর চামড়া। ছবি: আজকের পত্রিকা

এক কোরবানি গিয়ে আরেক কোরবানির সময় চলে এসেছে। অথচ বিগত বছরগুলোর মতো গেল কোরবানিতেও জবাই করা পশুর চামড়া অবমূল্যায়িত রয়ে গেছে। এ কারণে পাইকারেরাও চামড়া কেনায় আগ্রহ হারিয়েছে। এ অবস্থায় খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলার বিভিন্ন এতিমখানা-সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসাগুলোতে প্রক্রিয়াজাত করা চামড়া এখনো বাজারজাত করা সম্ভব হয়নি। এই কোরবানির পশুর চামড়া এখন এতিমদের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

২৬ এপ্রিল (রোববার) সকালে উপজেলার ডাইনছড়ি বাজার হজরত আবু বকর রা. মাদ্রাসা ও এতিমখানায় গিয়ে দেখা গেছে, গত কোরবানির পশুর চামড়াগুলো যথানিয়মে, যথাসময়ে প্রক্রিয়াজাত করে একটি কক্ষে সংরক্ষণ করা হয়েছে। এসব চামড়া সংগ্রহ, পরিষ্কার এবং লবণ মেশানোসহ রক্ষণাবেক্ষণে ব্যয় হয়েছে সাড়ে ২২ হাজার টাকা। অথচ দীর্ঘ এক বছরের চেষ্টায়ও অবিক্রীত থাকায় এসব চামড়া এখন প্রতিষ্ঠানের গলার কাঁটা।

মাদ্রাসা পরিচালক মাওলানা জাফর আহমেদ বলেন, ‘গত কোরবানে এতিমখানা-সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসায় সংগৃহীত পশুর চামড়া প্রক্রিয়াজাত করার জন্য সরকার থেকে আমরা বিনা মূল্যে লবণ পেয়েছিলান। ফলে যথানিয়মে, যথাসময়ে চামড়া সংগ্রহ করে পরিষ্কার শেষে নিয়মমাফিক লবণ মিশিয়ে শতাধিক গরু ও ছাগলের চামড়া প্রক্রিয়াজাত করলেও এখন পর্যন্ত সরকার কিংবা কোনো ব্যবসায়ী চামড়া কিনতে আসেননি। আমরা অনেকবার, অনেক জায়গায় যোগাযোগ করেও চামড়া বিক্রির সুযোগ বা কারও সাড়া পাইনি। এখন এসব চামড়া রাখতে একটি কক্ষ ব্যবহারসহ রক্ষণাবেক্ষণে হিমশিম খাচ্ছি।’

এদিকে একই প্রক্রিয়ায় উপজেলার তিনটহরী মহিসুন্নাহ, গাড়ীটানা মহিলা মাদ্রাসা, সাপমারা মাদ্রাসা ও ডাইনছড়ি বড় মাদ্রাসায় প্রায় তিন শতাধিক চামড়া সংরক্ষণ করা হলেও গত ফেব্রুয়ারিতে মাত্র ৫০ টাকা পিস হারে বিক্রি করে ঝামেলামুক্ত হয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলো।

তিনটহরী মহিসুন্নাহ মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা মো. ফরিদুল আলম বলেন, ‘কয়েক বছর ধরে কোরবানির পশুর চামড়া নিয়ে আমরা (এতিমখানা-সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসা) কী পরিমাণ ভোগান্তি পোহাচ্ছি, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। চামড়া বিক্রির টাকা দিয়ে এতিম শিশুদের খরচ মেটানো হতো অনেকাংশে। এখন চামড়া বিক্রি করতে গিয়ে যদি এত হয়রানি, অপদস্থ, ভোগান্তি পোহাতে হয়, তাহলে আমরা এতিমখানা-সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসাগুলো চালাব কী করে?’

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোস্তফা কামাল আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘কোরবানির চামড়া সংগ্রহ বা বিক্রির বিষয়ে আমাদের (প্রাণিসম্পদ অফিস) করণীয় কিছু নেই। সাধারণত শহর বা গ্রামের খুচরা (এক দিনের) চামড়া ব্যবসায়ীরা তৃণমূল থেকে এসে মাদ্রাসা বা কোরবানি দাতাদের কাছ থেকে চামড়া কিনে নেন। গত মৌসুমের চামড়া এখন পর্যন্ত কোনো মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ বিক্রি করতে পারেনি, এমন তথ্য জানা ছিল না বা কেউই আমাদের সহযোগিতা চায়নি। চাইলে হয়তো অফিশিয়ালি আমরা শহরকেন্দ্রিক কোনো ট্যানারির মালিক বা চামড়া ব্যবসায়ীদের সঙ্গে অবিক্রীত চামড়ার মালিকদের যোগাযোগ করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করতাম। এখন যেহেতু মিডিয়ার মাধ্যমে অবগত হলাম, তাহলে চেষ্টা করব তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দিতে।’

লাল সোনাইলে আলো হয়ে আছে পাহাড়

মানিকছড়িতে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি শিশু

পাহাড়ে মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে ক্যাসিয়া জাভানিকা

নেচে-গেয়ে মারমা সম্প্রদায়ের সাংগ্রাই পালন

কাপ্তাই হ্রদে ভাসল ফুল, পাহাড়ে উৎসবের আমেজ

চেঙ্গী নদীতে ফুল ভাসিয়ে পাহাড়ে বিজু উৎসবের সূচনা

খাগড়াছড়িতে প্রবীণদের স্নান করিয়ে আশীর্বাদ নিলেন নবীনেরা

অবৈধ পাহাড় কাটা চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে: জেলা প্রশাসক

কর্মস্থল খাগড়াছড়ির পানছড়ি, চিকিৎসাসেবা দেন টাঙ্গাইলের ক্লিনিকে ক্লিনিকে

খাগড়াছড়িতে ইউপিডিএফ সদস্যকে গুলি করে হত্যা