পাহাড়, ঝরনা, আঁকাবাঁকা পাহাড়ি সড়ক আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা খাগড়াছড়িকে বলা হয় পাহাড়ের রানী। অথচ জেলায় আশানুরূপ পর্যটকের দেখা মিলছে না। পর্যটকদের আগমন কমে যাওয়ায় হতাশ পর্যটননির্ভর ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ, পরিবহনসহ পর্যটনকেন্দ্রিক বিভিন্ন ব্যবসায় মন্দা দেখা দিয়েছে।
পর্যটকদের বড় একটি অংশের কাছে খাগড়াছড়ি মানেই সাজেক ভ্যালি। সাজেকে টানা অবরোধের প্রভাব পড়েছে খাগড়াছড়ির পর্যটনশিল্পেও। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, সাজেক সড়কে অবরোধ ও যোগাযোগ নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে জেলার সামগ্রিক পর্যটন খাতে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।
আলুটিলা পর্যটনকেন্দ্রের টিকিট কাউন্টারের দায়িত্বে থাকা কোকনাথ ত্রিপুরা বলেন, আলুটিলা পর্যটনকেন্দ্রে গড়ে প্রতিদিন এক হাজারের বেশি পর্যটক আসতেন। বর্তমানে সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২০০-তে। তাঁদের অধিকাংশই স্থানীয় পর্যটক।
খাগড়াছড়ি শহরের অরণ্য বিলাস হোটেলের ব্যবস্থাপক মো. সাগর জানান, সাজেক সড়কে অবরোধ শুরুর পর থেকেই তাঁদের হোটেলের বুকিং কমে গেছে। বর্তমানে কোনো বুকিং নেই।
পার্বত্য যানবাহন মালিক সমিতির সভাপতি আয়ুশ চাকমা জানান, খাগড়াছড়িতে পিকআপ, জিপ, সাফারি গাড়ি, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মাহিন্দ্র মিলিয়ে অন্তত ৪০০ থেকে ৫০০টি যানবাহন সাজেকে চলাচল করে। টানা অবরোধের কারণে এসব যানবাহন বসে আছে। পর্যটক না থাকায় চালক ও সংশ্লিষ্ট কর্মীরাও কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।
পর্যটনসংশ্লিষ্টদের দাবি, হোটেল, রেস্তোরাঁ ও পরিবহনসহ পর্যটনকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্যে প্রতিদিন বিপুল আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে।
খাগড়াছড়ি শহরের শাপলা চত্বর এলাকার মনটানা রেস্তোরাঁর মালিক মো. জিয়া বলেন, সাজেক বন্ধ হওয়ার পর প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা লোকসান হচ্ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে রেস্তোরাঁ বন্ধ করে দিতে হবে।
খাগড়াছড়ির অন্যতম হোটেল গাইরিংয়ের ব্যবস্থাপক প্রান্ত ত্রিপুরা বলেন, সাজেক বন্ধ থাকায় তাঁদের হোটেলের অর্ধেকের বেশি কক্ষ খালি পড়ে আছে। হোটেলে অতিথি নেই বললেই চলে।
পার্বত্য জেলা পরিষদ হর্টিকালচার পার্কের কর্মচারী মনতোষ ত্রিপুরা বলেন, পর্যটকের অভাবে পার্কের জিপ লাইন ও জায়ান্ট সুইং বন্ধ রয়েছে। সাজেক বন্ধ থাকায় ১০ দিন ধরে কোনো পর্যটক আসছেন না।
খাগড়াছড়ি শহরের জুমলাইন মার্কেটের মালিক রিটন চাকমা বলেন, সাজেকে ঘুরতে যাওয়া পর্যটকদের ওপর তাঁদের ব্যবসা নির্ভরশীল। স্থানীয়দের মধ্যে তাঁদের নিজস্ব টেক্সটাইলের পোশাকের চাহিদা কম। সাজেক বন্ধ থাকায় খাগড়াছড়িতে পর্যটক নেই বললেই চলে। এক সপ্তাহ ধরে কোনো বেচাকেনা নেই। দোকান খুলে সারা দিন বসে থাকলেও ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না।
খাগড়াছড়ি পর্যটন মোটেলের ব্যবস্থাপক ক্যাচিং মারমা বলেন, জেলার অধিকাংশ ব্যবসা-বাণিজ্য পর্যটনকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। খাগড়াছড়িকেন্দ্রিক পর্যটনের বিকাশে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। পর্যটকের ঘাটতি দেখা দিলেই ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হন। এ অবস্থা দীর্ঘদিন চলতে থাকলে অনেক ব্যবসায়ী আরও ক্ষতির মুখে পড়বেন।
জেলা পরিষদ হর্টিকালচার পার্কের উপসহকারী কর্মকর্তা কান্তি বিকাশ ত্রিপুরা বলেন, সাজেক ভ্যালি বন্ধ থাকায় হর্টিকালচার পার্কে পর্যটক আসছেন না। পার্কের বিভিন্ন দায়িত্বে ২১ জন কর্মী কাজ করেন। পর্যটক না থাকায় তাঁদের বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য ব্যয় চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।