পানছড়ি (খাগড়াছড়ি): খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক ও নার্স সংকটের কারণে সেবাবঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। যেখানে পাঁচটি ইউনিয়নের চারটি কমিউনিটি ক্লিনিকের মধ্যে শুধু উল্টাছড়ি ইউনিয়নে একজন কমিউনিটি চিকিৎসক আছেন। ফলে একমাত্র সরকারি হাসপাতাল থেকে স্থানীয়রা প্রায় কোনো সেবাই পাচ্ছেন না। সাধারণ চিকিৎসার জন্যও তাদের ছুটতে হচ্ছে সদরে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৩ জন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও আছেন তিনজন। অপরদিকে ১৪ জন নার্সের পরিবর্তে আছেন ছয়জন। ল্যাব টেকনেশিয়ান দুই জন থাকার কথা থাকলেও আছেন একজন। পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার জন্য পাঁচজন মালি থাকার কথা থাকলেও আছে দুইজন। অফিস সহকারী ছাড়াই চলছে স্বাস্থ্যসেবার এই বিশাল প্রতিষ্ঠান। এক্সরে ও গাইনি বিভাগের সরঞ্জামাদি থাকা সত্ত্বেও রোগীদের বিভিন্ন পরীক্ষার জন্য ছুটতে হচ্ছে শহরের হাসপাতালে। চিকিৎসক সংকটের কারণে মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্তরা রোগী নিয়ে খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রাম, ফেনি-কুমিল্লায় ছুটছে। নিম্নবিত্ত ও প্রত্যন্ত এলাকার রোগীরা হাতুড়ে ডাক্তার, পানিপরা, বৈদ্য–কবিরাজের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। অনেক সময় অপচিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অনুতোষ চাকমা জানান, চিকিৎসক সংকটের কারণে চিকিৎসা সেবায় ঘাটতি রয়েছে কথাটা সত্য। আমাদের হাসপাতালের ডাক্তার রিপল বাপ্পি খাগড়াছড়ি সদর ও ডাক্তার আবির দীঘিনালা হাসপাতালে ডেপুটেশনে আছেন।
পানছড়ি উপজেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান চন্দ্র দেব চাকমা অভিযোগের সুরে বলেন, এর আগে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কোনো কোনো চিকিৎসক যোগ দেওয়ার আগেই অন্যত্র বদলির রেকর্ড আছে। তাই যখন-তখন বদলির ব্যাপারে কিছু নিষেধাজ্ঞা জারি ছাড়া পাহাড়ের এই প্রত্যন্ত অঞ্চলে চিকিৎিসাসেবা পাওয়া সম্ভব নয়। এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করে শূন্যপদগুলো পূরণের জোর দাবি জানান তিনি।