ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জয়পুরহাট-১ ও ২ আসনের প্রার্থীরা দিচ্ছেন একের পর এক প্রতিশ্রুতি। কেউ আর্থিক নিরাপত্তার কথা বলছেন, কেউ নৈতিক শাসনের, কেউ আবার কর্মসংস্থানের স্বপ্ন দেখাচ্ছেন। কিন্তু সাধারণ ভোটারদের মনে ঘুরপাক খাচ্ছে একটাই প্রশ্ন—‘এই প্রতিশ্রুতি কি নির্বাচনের পরও টিকে থাকবে?’
বিএনপি, জামায়াত এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ইতিমধ্যে বিভিন্ন সভা-সমাবেশে নিজেদের পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। জয়পুরহাট-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী মাসুদ রানা প্রধান শিক্ষা ও অবকাঠামো উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেছেন। তিনি চিনিকল আধুনিকায়ন ও গ্যাস-সংযোগ সম্প্রসারণের মাধ্যমে শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করার কথাও উল্লেখ করেছেন।
অন্যদিকে জয়পুরহাট-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী আব্দুল বারী দলীয় ঘোষণার সঙ্গে মিল রেখে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন।
জামায়াত-সমর্থিত প্রার্থীরাও উন্নয়ন ও নৈতিক শাসনের কথা বলছেন। জয়পুরহাট-১ আসনের প্রার্থী মো. ফজলুর রহমান সাঈদ জানিয়েছেন, নির্বাচিত হলে তিনি জয়পুরহাটকে দুর্নীতি, মাদকমুক্ত ও সেবামুখী এলাকায় রূপ দিতে চান।
জয়পুরহাট-২ আসনের জামায়াত-সমর্থিত প্রার্থী এস এম রাশেদুল আলম সবুজ গণসংযোগে বলছেন, তিনি সামাজিক ন্যায়নীতি প্রতিষ্ঠা, নাগরিক অধিকার রক্ষা এবং উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডকে অগ্রাধিকার দেবেন।
স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন সাবেকুন নাহার শিখা। তিনি জয়পুরহাটকে আধুনিক মডেল নগরীতে রূপ দেওয়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হিসেবে দেখছেন।
জয়পুরহাট সদরের পারুলিয়া গ্রামের গৃহিণী জুলেখা বেগম বলেন, ‘আগে অনেক প্রতিশ্রুতি শুনেছি, শেষ পর্যন্ত কিছুই পাইনি।’ কালাই উপজেলার কৃষক রফিকুল ইসলাম, আব্দুল মোমেন, আলাউদ্দিন, মোনতেজারসহ অনেক কৃষক বলেন, ‘ভোটের পর নেতারা যেন সব ভুলে না যান।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বলেন, ‘ক্ষমতা বদলালেই শুধু চাঁদাবাজির ধরন বদলায়—আমরা কাজ দিয়ে প্রমাণ দেখতে চাই।’
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আল-মামুন মিয়া আজকের পত্রিকাকে বলেন, আচরণবিধি মেনে প্রচারণা চলছে কি না তা কঠোরভাবে তদারকি করা হচ্ছে। বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ালে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।