যশোরের মনিরামপুরে দম্পতিকে অচেতন করে ঘরে ঢুকে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুটের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার দিবাগত রাতের কোনো একসময় উপজেলার বিজয়রামপুর গ্রামের আব্দুস সালামের দোতলা বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এতে প্রায় ১০ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ লুট হয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের। এর আগে তারা (দুর্বৃত্তরা) দীর্ঘ সময় ওই বাড়িতে অবস্থান করে খাওয়াদাওয়া করেন বলেও অভিযোগ।
ভুক্তভোগী আব্দুস সালাম (৪৫) ও তাঁর স্ত্রী শিউলি বেগম (৪০) বর্তমানে অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
ভুক্তভোগী আব্দুস সালামের ভাইঝি (ভাইয়ের মেয়ে) ইয়াসমিন আক্তার বলেন, ‘আমার চাচা আব্দুস সালাম একটি কোম্পানির পরিবেশক। বিজয়রামপুর হাইস্কুলের পাশে তাঁর দোতলা বাড়ি। দোতলার নির্মাণকাজ চলমান। ব্যালকনি ও ঘরের পাশের গাছ বেয়ে স্বাভাবিকভাবে ঘরের ভেতরে ঢোকা যায়। বুধবার রাতে চাচা-চাচি বাড়িতে ছিলেন। তাঁরা রাত ১২টার দিকে ঘুমিয়ে পড়েন। রাতের কোনো একসময় দুর্বৃত্তরা দোতলা দিয়ে ঢুকে নিচতলায় নেমে চেতনানাশক স্প্রে করে তাঁদের অজ্ঞান করে ফেলে। এরপর দুর্বৃত্তরা দোতলায় অবস্থান নিয়ে হাঁড়ির রান্না করা ভাত ঢেলে ওই পাত্রে ফ্রিজ থেকে ডিম নিয়ে সেদ্ধ করে খেয়েছে। বাক্স থেকে বালিশ ও কম্বল বের করে দোতলায় বিশ্রাম করেছে। ওই সময় তাঁরা বিস্কুট বের করে খেয়েছে। পানের ডালা বের করে পানও খেয়েছে। তারপর বাড়ির সব তছনছ করে চাচির ও তাঁর ছেলে বউয়ের ব্যবহৃত ১০ ভরি স্বর্ণালংকার ও প্লাস্টিকের ব্যাংক কেটে নগদ কিছু টাকা লুট করেছে।’
ইয়াসমিন বলেন, ‘আজ সকালে আমার ছোট ভাই গিয়ে চাচা-চাচিকে ডাকাডাকি করলে তাঁরা উঠে ঘরের বেহাল দেখতে পান। শারীরিক অবস্থা স্বাভাবিক না হওয়ায় সকালে চাচা-চাচিকে মনিরামপুর হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। পরে চাচা আব্দুস সালামকে চিকিৎসক যশোর জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।’
মনিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাঈদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।