যশোরের মনিরামপুরে সরকারি গাছ ও জব্দ করা সরঞ্জাম নিলামে বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহির দায়ান আমিনের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, যথাযথ প্রচারণা ছাড়াই গোপনে একটি পক্ষের সঙ্গে সমঝোতা করে নিলাম সম্পন্ন করা হয়েছে। এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
শনিবার গণমাধ্যমকর্মীদের হাতে আসা এসি ল্যান্ড মাহির দায়ান স্বাক্ষরিত নিলাম বিজ্ঞপ্তিতে দেখা যায়, মনিরামপুর গোহাটায় দুটি রেইনট্রি এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে জব্দ করা একটি এক্সকাভেটরের হামকো ব্র্যান্ডের ১২ ভোল্টের দুটি ব্যাটারি বিক্রির জন্য গত বুধবার (২২ এপ্রিল) বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গাছের নিলাম বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টায় গোহাটায় এবং ব্যাটারির নিলাম সকাল ১০টায় মনিরামপুর থানা চত্বরে হওয়ার কথা ছিল।
তবে অভিযোগ উঠেছে, নিলামের জন্য প্রয়োজনীয় প্রচারণা চালানো হয়নি। শুধু ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে তা সীমাবদ্ধ রাখা হয়। বিধি অনুযায়ী, ক্রেতা আহ্বানে মাইকিংসহ স্থানীয়ভাবে প্রচারণা চালানোর কথা থাকলেও তা করা হয়নি বলে জানা গেছে। এ ছাড়া নির্ধারিত স্থানে নিলাম না করে এসি ল্যান্ড নিজের দপ্তরে বসে গোপনে নিলাম সম্পন্ন করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এসি ল্যান্ডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গোহাটার রেইনট্রি দুটি ৫ হাজার টাকা এবং ব্যাটারি দুটি ৬ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে এসি ল্যান্ড মাহির দায়ান বলেন, ‘গোহাটার ইজারাদার ফয়জুল ইসলাম মৃত গাছ অপসারণের জন্য আবেদন করেছিলেন। উপজেলা বন বিভাগ গাছ দুটির মূল্য ৩ হাজার ৬০০ টাকা নির্ধারণ করে। পরে ৫ হাজার টাকায় নিলামে গাছ দুটি ফয়জুল ইসলাম কিনে নেন। ব্যাটারি দুটি নষ্ট থাকায় ৬ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে।’
তবে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, নিলামের বিষয়ে তাঁরা কিছুই জানতেন না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বলেন, নির্ধারিত সময়ে গাছের কাছে কোনো নিলাম কার্যক্রম চোখে পড়েনি। পরে শুনেছেন গাছ দুটি বিক্রি হয়ে গেছে, তবে কোন গাছ বিক্রি হয়েছে, তা-ও নিশ্চিত নন।
শনিবার বিকেলে সরেজমিনে গোহাটায় গিয়ে দেখা যায়, সেখানে চারটি পুরোনো রেইনট্রি রয়েছে, যার মধ্যে দুটি মৃত ও দুটি অর্ধমৃত।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, জ্বালানি হিসেবেই গাছ দুটি বিক্রি করলে প্রতিটি ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা পাওয়া যেত। একইভাবে নষ্ট হলেও এক্সকাভেটরের প্রতিটি ব্যাটারি অন্তত ১০ হাজার টাকায় বিক্রি হতে পারত। একটি পক্ষকে সুবিধা দিতে গোপনে নিলাম ডাকা হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁদের। এতে সরকার রাজস্ব হারিয়েছে বলেও দাবি করেন তাঁরা।
এ বিষয়ে মনিরামপুর উপজেলা বন বিভাগের বনপ্রহরী আবু তাহের বলেন, গাছ দুটি মৃত হওয়ায় ৩ হাজার ৬০০ টাকা মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে এসি ল্যান্ড মাহির দায়ান বলেন, নির্ধারিত সময়ে নিলামস্থলে কাউকে পাওয়া যায়নি। পরে বেলা ১১টার দিকে তাঁর দপ্তরে এসে তিনজন অংশ নিতে চান। তাঁদের মধ্যে ফয়জুল ইসলাম সর্বোচ্চ দরদাতা হওয়ায় নিলাম পান।