যশোরের মনিরামপুরে নির্বাচনী প্রচারণার প্রথম দিনে যানজট সৃষ্টি করে আচরণবিধি লঙ্ঘন করায় দুই প্রার্থীকে ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। আজ বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকেলে তাঁদের কাছ থেকে জরিমানা আদায় করা হয়। যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসানও এই যানজটের কবলে পড়েছিলেন বলে জানা গেছে।
দণ্ডপ্রাপ্ত দুই প্রার্থী হলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী কলস প্রতীকের শহীদ ইকবাল হোসেন এবং জামায়াতে ইসলামী-সমর্থিত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের গাজী এনামুল হক।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহির দায়ান আমিন এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আশীষ কুমার দাস ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে প্রার্থীদের জরিমানা করেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী শহীদ ইকবাল হোসেনকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং জামায়াত-সমর্থিত প্রার্থী গাজী এনামুল হককে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। শহীদ ইকবালের পক্ষে জরিমানা পরিশোধ করেন মনিরামপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নিস্তার ফারুক এবং গাজী এনামুলের পক্ষে অধ্যাপক আহসান হাবীব লিটন জরিমানা পরিশোধ করেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনী প্রচারণার প্রথম দিনে আজ বিকেলে শহীদ ইকবাল হোসেনের পক্ষে মনিরামপুর বাজারে বিপুলসংখ্যক কর্মী-সমর্থক জড়ো হন। এতে মনিরামপুর বাজারের প্রধান সড়কের যান চলাচল কার্যত অচল হয়ে পড়ে। একই সময়ে মনিরামপুর বাজারে কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে মিছিল বের করেন গাজী এনামুল হক। এতে পথচারী ও যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে আরও জানা গেছে, নির্বাচন-সংক্রান্ত খুলনায় বিভাগীয় একটি সভায় যোগ দিয়ে বিকেলে মনিরামপুর হয়ে যশোরে ফিরছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান। তিনিও মনিরামপুর বাজারে এসে যানজটের কবলে পড়েন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে এসি ল্যান্ড মাহির দায়ান বলেন, আজ বিকেলে মনিরামপুর বাজারে নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর সময় চলাচল ও জনজীবন বিঘ্ন ঘটান কলস ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের দুই প্রার্থীর সমর্থকেরা। যশোরের জেলা প্রশাসক খুলনা থেকে ফেরার পথে মনিরামপুরের যানজট প্রত্যক্ষ করেন।
এসি ল্যান্ড মাহির আরও বলেন, আচরণবিধি ভঙ্গ করায় ২০২৫ সালের নির্বাচনী আচরণ বিধিমালার ২৭(ক) ধারায় পৃথক অভিযানে দুই প্রার্থীকে জরিমানা করা হয়।