হোম > সারা দেশ > যশোর

বাসুদেবপুর এখন ‘নার্সারি ভিলেজ’

জাহিদ হাসান, যশোর 

নার্সারিতে গাছের পরিচর্যায় ব্যস্ত দুজন। ছবিটি সম্প্রতি যশোরের মনিরামপুর উপজেলার রোহিতা ইউনিয়নের বাসুদেবপুর গ্রাম থেকে তোলা। আজকের পত্রিকা

যশোর শহর থেকে ১৩ কিলোমিটার দক্ষিণে বাসুদেবপুর গ্রাম। গ্রামের বাড়িগুলোর আশপাশে থাকা সামান্যতম ভিটেমাটি অনাবাদি নেই। গ্রামের মাঝ দিয়ে যাওয়া রাস্তার দুধারে ফুল, ফল, মসলা ও বনজ বৃক্ষের চারা চোখে পড়ে। সেই সঙ্গে চোখে পড়ে, নার্সারির নামসংবলিত সাইনবোর্ড।

নার্সারিগুলোয় মানুষের ব্যস্ততার দৃশ্যও চোখ এড়ায় না। কেউ নিড়ানি দিচ্ছেন, কেউ চারায় পানি দেওয়ায় ব্যস্ত। আবার কেউ ভ্যান, নছিমন, ট্রাক ও পিকআপে তুলছেন চারা।

যশোরের কাছাকাছি হলেও গ্রামটি মনিরামপুরের রোহিতা ইউনিয়নে অবস্থিত। গ্রামে পাঁচ শতাধিক নার্সারি রয়েছে। নার্সারিগুলোতে প্রায় দেড় হাজার রকমের গাছের চারা তৈরি হয়। দেশের নানা প্রান্ত থেকে মানুষ এসে চারা নিয়ে যায়। গ্রামটি পরিচিতি পেয়েছে ‘নার্সারি ভিলেজ’ হিসেবে।

স্থানীয়রা জানান, বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারার মধ্যে লিচু গাছের চারা বিক্রি হয় সবচেয়ে বেশি। দিনাজপুরের চাষিদের কাছে বাসুদেবপুরের লিচু গাছের চারার কদর অনেক। প্রতি মৌসুমে ৫০ ট্রাকের ওপর লিচু গাছের চারা বিক্রি হয়। বর্ষা মৌসুমে ১৫ কোটি টাকার চারা বিক্রি হলেও সারা বছর বিক্রির হিসাবে এই টাকার অঙ্ক আরও বেশি।

যেভাবে শুরু

প্রায় অর্ধশতাব্দী নার্সারির ব্যবসা চলছে বাসুদেবপুরে। শুরুর দিকের বাচড়ায় (স্থানীয় ভাষায় পতিত জমি) দেশি মসলাসহ বিভিন্ন ফলের চারা তৈরি করা হতো। নিজেদেরসহ স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে অতিরিক্ত চারা বিক্রি করতেন নার্সারির মালিকেরা। অন্য চারার মধ্যে লিচু গাছের চারা তৈরি করা হতো বেশি। আর এই চারার হাত ধরেই এখানে ফলদ, বনজসহ রকমারি বৃক্ষের চারার উৎপাদন শুরু হয়।

যাঁর হাত ধরে গোড়াপত্তন

বাসুদেবপুরে নার্সারি ব্যবসার শুরু হয় মোহাম্মদ আলী নামে সাবেক এক ইউপি সদস্যের হাত ধরে। স্বাধীনতা পূর্ববর্তী সময়ে তিনি নার্সারির ব্যবসা শুরু করেন। তাঁর ছেলেরা এখন সেই নার্সারির হাল ধরেছেন। তাঁদের নার্সারির নাম ‘পুরাতন নার্সারি’। ২২ বিঘা জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত এই নার্সারিতে কয়েক শ প্রজাতির লক্ষাধিক গাছের চারা রয়েছে। মোহাম্মদ আলী একবার দেশের সর্বোচ্চ চারা উৎপাদনকারী হিসেবে পুরস্কারও পেয়েছেন।

মোহাম্মদ আলীর ছোট ছেলে আনোয়ারুল ইসলাম জানান, এলাকার প্রথম নার্সারি বলে এটিকে বেশির ভাগ মানুষ পুরাতন নার্সারি বলে ডাকেন। এখন কাগজ-কলমেও এটি পুরাতন নার্সারি। তিনি দাবি করেন, তাঁদের নার্সারি খুলনা বিভাগের প্রথম নার্সারি। এক সময় খুলনাসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যবসায়ীরা এসে চারা সংগ্রহ করতেন।

চারা যায় দিনাজপুরে

দিনাজপুরের চাষিদের কাছে বাসুদেবপুরের লিচুর চারার ব্যাপক চাহিদা। প্রতি মৌসুমে ৩০ থেকে ৪০ হাজারেরও বেশি লিচুর চারা যায় দিনাজপুরে। স্থানীয় নার্সারি মালিকদের দাবি, দেশের সর্বোচ্চ লিচু গাছের চারা উৎপাদন হয় বাসুদেবপুরে। শুধু বষা মৌসুমেই ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকার লিচু গাছের চারা বিক্রি হয়।

চাকরি ছেড়ে উদ্যোক্তা

বাসুদেবপুর বাজারের শুরুতে এনামুল হকের একতলা বাড়ি। বাড়ির সঙ্গেই তিনি প্রায় এক একর জমিতে নার্সারি গড়ে তুলেছেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগ থেকে পাস করা এনামুল ঢাকায় ভালো বেতনে চাকরি করতেন। করোনা পরিস্থিতিতে চাকরি ছেড়ে বাড়ি ফিরে নার্সারি গড়ে তোলেন। তিনি বলেন, ‘নিজেই চারা উৎপাদন করি, আবার অন্যদের কাছ থেকেও সংগ্রহ করে বিক্রি করি। এতে ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। সিদ্ধান্ত নিয়েছি, চাকরি আর করব না।’

৩৭ বছর আগে অন্যের জমিতে শ্রম দিতেন মোশাররফ গাজী। একসময় পাঁচ শতক জমি ইজারা নিয়ে চারা তৈরির উদ্যোগ নেন। চারা তৈরি ও বিক্রিতে ভালো লাভ দেখে পরের বছর এক বিঘা জমিতে চারা তৈরি করেন। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে। এখন নিজের ১৮ বিঘা জমিতে চারা তৈরি করছেন। চারার ব্যবসা করে তিনি বাসুদেবপুর বাজারে দোতলা মসজিদ ও মাদ্রাসা তৈরি করে দিয়েছেন। মসজিদের সামনে রাস্তার সঙ্গে চারা বিক্রির বিশাল একটি কেন্দ্র রয়েছে তাঁর। সেখানে দেশি ফলের চারার পাশাপাশি বিদেশি পার্সিমন, ডরিয়ান, রামভুটান, পিনাক বাটার, কিউই, শ্বেত চন্দন, রক্ত চন্দন, আপেলসহ বিভিন্ন ধরনের ফলদ ও ভেষজ গাছের চারা পাওয়া যায়। মোশাররফ গাজীর মতো এই গ্রামের আরও চারজন চারার ব্যবসা করে কোটিপতি হয়েছেন। তাঁরা হলেন ভাই ভাই নার্সারির রুহুল আমিন, তরফদার নার্সারির রিয়াজ তরফদার, বিশ্বাস নার্সারির স্বপন কুমার বিশ্বাস ও বিসমিল্লাহ নার্সারির কুদরত আলী গাজী।

বাসুদেবপুর নার্সারি মালিক সমিতির সভাপতি মাহাবুবুর রহমান বলেন, ‘গ্রামে পাঁচ শর বেশি নার্সারি রয়েছে। এ ছাড়াও প্রত্যেক বাড়ির উঠানে চারা ফলানো হয়। প্রতিবছর চারা বিক্রি থেকে বাসুদেবপুরে ১৫ কোটি টাকার বেশি আর্থিক লেনদেন হয়। বর্ষা মৌসুমে ৩৫ থেকে ৪০ ট্রাক লিচু গাছের চারা যায় দিনাজপুরে। সারা দেশের মানুষ যে লিচু খায় সেই গাছের চারা বাসুদেবপুর থেকে যায়। দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ লিচু গাছের চারা বাসুদেবপুরের নার্সারিতে উৎপাদন হয়।’

ব্রাজিলের খেলার সময় লোডশেডিং, বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে হামলা

যশোরে পিকআপ-মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে স্কুলশিক্ষক নিহত

যশোরে ২ কোটি টাকার সোনার বারসহ যুবক আটক

বেনাপোল বন্দরে কাগজপত্রবিহীন পণ্যবাহী ভারতীয় ট্রাক জব্দ

শার্শা সীমান্তে বজ্রপাতে বিজিবি সদস্য আহত

যশোরে ‘চশমা সাইদ’কে গলা কেটে হত্যা

চাবি হস্তান্তরের দেড় বছরেও বরাদ্দ হয়নি আশ্রয়ণের ৩৬ ঘর

কেশবপুরে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় থানায় মামলা

যশোরে ৭ কোটি টাকার স্বর্ণসহ দুই পাচারকারী আটক

যশোরের মনিরামপুর: পড়ে আছে আশ্রয়ণের ঘর, পাননি ভূমিহীনেরা