ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-৫ (মনিরামপুর) আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জোটের প্রার্থী রশীদ আহমাদ। তিনি জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের একাংশের যুগ্ম মহাসচিব। তবে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রশীদ আহমাদকে হারাতে এককাট্টা হয়েছেন যশোর জেলা ও মনিরামপুর উপজেলা বিএনপির নেতারা। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কলস প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা বিএনপির বহিষ্কৃত সভাপতি শহীদ মো. ইকবাল হোসেন। ফলে বিএনপির বিভাজনের এই সুযোগে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর জয়ের পথ সুগম হচ্ছে বলে মনে করছেন ভোটার ও নেতা-কর্মীরা।
জানা গেছে, যশোর-৫ আসনে প্রথমে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছিলেন সে সময়ের উপজেলা সভাপতি শহীদ মো. ইকবাল হোসেন। গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে তাঁকে বাদ দিয়ে ধানের শীষের মনোনয়ন দেওয়া হয় রশীদ আহমাদকে। দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে কলস প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন শহীদ মো. ইকবাল হোসেন।
দলের বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করায় বিএনপির মনিরামপুর পৌর ও চারটি ইউনিয়নের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। বহিষ্কার করা হয়েছে বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে। এরপরও বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের অনেক নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন।
এদিকে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থীর বিজয়ের পথ সুগম হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন মনিরামপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিন্টু। তিনি সম্প্রতি উপজেলা, পৌর ও কলেজ ছাত্রদলের এক যৌথ সমন্বয় সভায় আসন হাতছাড়া হওয়ার শঙ্কার কথা তুলে ধরেন। তাঁর ১ মিনিট ৪৬ সেকেন্ডের ওই ভিডিও বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দলের নেতা-কর্মীদের মাঝে তোলপাড় হয়।
ভিডিওতে আসাদুজ্জামান মিন্টুকে বলতে শোনা যায়, ‘কালকে (সম্প্রতি) আমি যশোরে সভাপতি-সেক্রেটারিকে বলে এসেছি, সেখানে অমিত সাহেব (অন্য আসনের বিএনপির প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত) ছিলেন। আমি এই কথাটাই বলে এসেছি যে, আপনারা কিছু করতে না পারলে, আমরা বুঝব, আপনারা দুই দিকে খেলছেন। কাজেই আমি প্রার্থীকে বলব, আপনি প্রত্যাহার করে ঘরে ফিরে যান। স্বতন্ত্র সে নির্বাচন করুক। যা হয় হোক, তাতে তো আর আমার যায়-আসে না। আমি তো তাঁদের (জেলা বিএনপি) টাকায় চাল-ডাল কিনে খাই না। বরং আমরা তাঁদের বিভিন্ন সময় টাকাপয়সা দিয়ে হেল্প করি।’
মিন্টু আরও বলেন, ‘মনিরামপুরের বিষয়টা নিয়ে জেলা বিএনপি একটা খেলায় নেমেছে। সভাপতি-সেক্রেটারির বিষয়টা স্পষ্ট। তাঁরা এই নির্বাচনটাকে নিয়ে খেলা করছেন। আজকে ধানের শীষ আর কলস মার্কা দাঁড় করিয়ে দিয়ে, দাঁড়িপাল্লা পাস করিয়ে দেওয়ার মতো সুযোগ তাঁরা করে দিয়েছেন।’
ভিডিওর বক্তব্যের সত্যতা নিশ্চিত করে আসাদুজ্জামান মিন্টু বলেন, ‘যাঁরা ধানের শীষের বিপক্ষে কাজ করছেন, তাঁদের বহিষ্কারের জন্য জেলা বিএনপির কাছে তালিকা দেওয়া হয়েছে। তাঁদের বহিষ্কার না করে পৌর ও চারটি ইউনিয়ন কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। কমিটি বিলুপ্ত হওয়ায় ওই
সব কমিটির যাঁরা ধানের শীষের পক্ষে কাজ করছিলেন, তাঁদের তো শাস্তি দেওয়া হলো।’
যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেরুল হক সাবু বলেন, ‘তাঁর (আসাদুজ্জামান মিন্টু) কথার কোনো যৌক্তিকতা নেই। পার্টি যাঁকে মনোনয়ন দিয়েছে, তাঁর পক্ষে আমরা একমত। উনি (ধানের শীষের প্রার্থী) যাঁদের নাম দেবেন, তাঁদের বহিষ্কার করে দেওয়া হবে। উনি যদি বলেন, সবাইকে বহিষ্কার করতে হবে, তাহলে সবাইকে বহিষ্কার করে দেওয়া হবে। পার্টির সেক্রেটারির সঙ্গে যোগাযোগ করলে উনি আমার সঙ্গে আলোচনা করে বহিষ্কার করবেন। এখানে আমাদের কোনো আপত্তি নেই।’