হোম > সারা দেশ > হবিগঞ্জ

হবিগঞ্জে হাওরের খলা থেকে ছড়াচ্ছে পচা ধানের দুর্গন্ধ, দুশ্চিন্তায় কৃষক

সহিবুর রহমান, হবিগঞ্জ 

ছবি: আজকের পত্রিকা

হবিগঞ্জের হাওরাঞ্চলে গত কয়েক দিনে পানি বৃদ্ধির কারণে বিপুল পরিমাণ বোরো ধান তলিয়ে যায়। এর মধ্যে হাওরের প্রায় ১১ হাজার ৬শ হেক্টর বোরো ধানের জমি সম্পূর্ণ তলিয়ে গেছে। এ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ১৩ হাজার হেক্টর জমির বোরো ধান। তবে কাটা ধান খলায় নিলেও অবিরাম বৃষ্টির কারণে শুকানো যায়নি। বছরের একমাত্র ফসল এসব ধান পচে গেছে। পচা ধান থেকে এখন ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ।

এদিকে জেলার নদ-নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় উঁচু জমির বোরো ধান তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। একই সঙ্গে রয়েছে ধান কাটার শ্রমিক সংকট। এ কারণে বাকি জমির ধানও কাটতে না পারায় দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কৃষকেরা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বহু জমির ধান পানিতে ভিজে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ভেজা ধান থেকে আবার চারাও গজিয়েছে। সবমিলিয়ে কৃষকদের ক্ষতি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

হবিগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, এ পর্যন্ত প্রায় ১৩ হাজার হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১১ হাজার ৫৬৫ হেক্টর জমির বোরো ধান সম্পূর্ণভাবে পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত হাওর এলাকায় প্রায় ৭৩ শতাংশ ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে। নন হাওর এলাকায় ৩০ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে।

চলতি বোরো মৌসুমে হবিগঞ্জ জেলায় ১ লাখ ২৩ হাজার ৮ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১ লাখ ৪০ হাজার ৫৩২ মেট্রিক টন।

জেলার আজমিরীগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের ফতেহপুর গ্রামের গউছ মোড়লের সঙ্গে। তিনি জানান, এবার ২০ বিঘা জমিতে বোরো ধানের চাষ করেছিলেন। ভারী বৃষ্টিতে হাওরে পানি বৃদ্ধিতে তাঁর প্রায় ১৪ বিঘা জমি সম্পূর্ণ তলিয়ে গেছে। অবশিষ্ট ৬ বিঘা জমির ধান কাটলেও অবিরাম বৃষ্টিতে সেগুলো শুকাতে পারেননি। এখন খলায় নষ্ট হয়ে এই ধান থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।

এ অবস্থা চলছে হবিগঞ্জের হাওরাঞ্চলখ্যাত বানিয়াচং ও আজমিরীগঞ্জ এবং লাখাই উপজেলাজুড়ে। হাওরের কৃষকদের একমাত্র ভরসা এই বোরো ধান। কিন্তু অব্যাহত ভারী বর্ষণে এই এলাকার কৃষকের স্বপ্ন পানি নিচে। বাকি যে ধান কাটার মতো অবস্থায় রয়েছে, তা-ও শ্রমিকের সংকটে তোলা যাচ্ছে না।

বানিয়াচং ও আজমিরীগঞ্জ এবং লাখাই উপজেলার কৃষকেরা জানান, বিরামহীন বৃষ্টিতে খলায় রাখা ধানও রক্ষা করতে পারছেন না।

বানিয়াচংয়ের সুবিদপুর ইউনিয়নের বলাকিপুর গ্রামের কৃষক আফজাল চৌধুরী বলেন, তিনি এবার ১৭ বিঘা জমিতে ধান করেছিলাম। এর মধ্যে ৮/৯ বিঘার ধান পানির নিচে চলে গেছে। শ্রমিক সংকটে এখন তাঁরা বিপদে রয়েছেন। হবিগঞ্জের কোথাও ধান কাটার শ্রমিক নেই।

আফজাল চৌধুরী আরও বলেন, ‘আমরা এখন নিরূপায়। এখন কী করে যে চলব, কী করে খাব, একমাত্র আল্লা জানে। অনেক খরচ করে ১৭ বিঘা জমি করেছি। ৬০০ টাকা রোজ শ্রমিক ভাড়া, বীজের কেজি ৪০০ টাকা, সারের বস্তা ১ হাজার টাকা, ১৩শ’ টাকা ইউরিয়া, ১৭শ’ টাকা পটাশ সার দিলাম। এখন আল্লা যেহেতু আমাদের মুখের খাবার গ্রাস করেছেন, এই অবস্থায় আল্লাই ভরসা।’

হবিগঞ্জ জেলা কৃষি অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক দীপক কুমার পাল জানান, হাওরাঞ্চলে এখন পর্যন্ত ৩৪ হাজার ২১৬ হেক্টর জমির বোরো ধান কাটা হয়েছে। হাওর ছাড়া হবিগঞ্জ জেলার অন্যান্য এলাকায় ২৩ হাজার ৪শ’ হেক্টর জমির বোরো ধান কাটা হয়েছে। এ পর্যন্ত জেলায় কাটা হয়েছে ৫৭ হাজার ৬৪৩ হেক্টরের ধান। এখনো কাটা বাকি ৬৬ হাজার ১ হেক্টর জমির বোরো ধান। সব মিলিয়ে জেলায় এ পর্যন্ত ৪৬ শতাংশ বোরো ধান কাটা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করছে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সায়েদুর রহমান জানান, বিগত তিনদিন যাবত হবিগঞ্জে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় সব-কটি নদীর পানি কমতে শুরু করছে। যদি আগামী সমাপ্তখানেক রোদ উঠলে কৃষকেরা অবশিষ্ট জমির ধান কাটতে পারবেন।

অপহরণের পর ঢাকায় যুবককে হত্যা, মরদেহ উদ্ধার মাধবপুরে

কিষানি সন্ধ্যা রানীর স্বপ্ন ডুবেছে হাওরের পানিতে, মাথায় ঋণের বোঝা

হবিগঞ্জে দুপক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

হবিগঞ্জের সুতাং নদ: মাছে প্লাস্টিক, পানিতে ভারী ধাতু

নবীগঞ্জে সরকারি জমি নিয়ে সংঘর্ষে কলেজছাত্র নিহত, আহত ৩০

হবিগঞ্জে খেলার মাঠে ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত

হবিগঞ্জ পৌরসভার মশকনিধন অভিযান উদ্বোধন করেন জাতীয় সংসদের হুইপ

হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের নতুন কমিটি গঠন

নবীগঞ্জে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে আন্ডারপাস নির্মাণের দাবি

বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে ৫০০ একর জমির ধান