গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় অপহরণ মামলার দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করতে আসা টাঙ্গাইল সদর থানা-পুলিশের ওপর হামলা হয়েছে। ডাকাত ও ভুয়া পুলিশ বলে প্রচার চালিয়ে আসামিদের স্বজনেরা পুলিশ সদস্যদের অবরুদ্ধ করে রাখেন এবং লোকজন জড়ো করে এই হামলা চালান।
একপর্যায়ে আসামিদের বাড়ির কয়েকজন নারী পুলিশ সদস্যদের হাতে কামড় দিয়ে হাতকড়াসহ দুই আসামিকে ছিনিয়ে নেন। এ ঘটনায় দুই থানার ১১ সদ্য আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ছয়জন টাঙ্গাইল সদর থানার এবং পাঁচজন শ্রীপুর থানার পুলিশ সদস্য।
আজ রোববার (১ মার্চ) রাতে উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের নিজমাওনা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
দুই ঘণ্টা পর অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে অভিযান চালিয়ে ছিনিয়ে নেওয়া ওই দুই আসামিসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এ ছাড়া আহত পুলিশ সদস্যদের হাসপাতালে পাঠানো হয়। তাঁদের নাম জানা যায়নি।
অপহরণ মামলায় গ্রেপ্তার আসামিরা হলেন উপজেলার নিজমাওনা গ্রামের মনির হোসেনের ছেলে আদিল (২২) ও তাঁর বাবা মনির হোসেন (৫০)। অন্য দুজনের তাৎক্ষণিক নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
মাওনা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মিজানুর রহমান বলেন, ‘টাঙ্গাইল সদর থানার একটি অপহরণ মামলার পরোয়ানাভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করতে টাঙ্গাইল সদর থানার ছয় সদস্যের একটি দল শ্রীপুরে আসে। এ সময় তাঁরা শ্রীপুর থানা-পুলিশের সহযোগিতা চান। পরে শ্রীপুর থানা-পুলিশের সহযোগিতায় টাঙ্গাইল সদর থানা-পুলিশ মাওনা গ্রামের আদিল ও তাঁর বাবা মনির হোসেনকে গ্রেপ্তার করে হাতকড়া পরিয়ে পুলিশের গাড়িতে তোলার চেষ্টা করে।’
মিজানুর রহমান আরও বলেন, ‘এ সময় বাড়ির লোকজন ডাকাত আসছে, ভুয়া পুলিশ আসছে বলে ডাক-চিৎকার দেয়। তাদের ডাক-চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে রাস্তা অবরোধ করে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে মারধর শুরু করে। এতে ১১ পুলিশ সদস্য আহত হন। আসামিদের বাড়ির নারীরা পুলিশ সদস্যদের কামড়ে গুরুতর আহত করেন এবং ওই দুই আসামিকে ছিনিয়ে নেন।’
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাছির আহমদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থল গিয়ে অভিযান চালানো হয়। এ সময় হাতকড়াসহ ছিনিয়ে নেওয়া দুই আসামি এবং দুই নারীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হামলায় ১১ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’