গাজীপুরে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটে (ব্রি) কৃষিশ্রমিকদের অতিরিক্ত কাজের (ওভারটাইম) পারিশ্রমিক বন্ধসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে শ্রমিকেরা বিক্ষোভ করেছেন।
আজ মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকাল ৯টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত এই বিক্ষোভ চলে। এ সময় শ্রমিকেরা প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালকের দপ্তরের সামনেও বিক্ষোভ দেখান।
শ্রমিকেরা জানান, ব্রি প্রতিষ্ঠার পর প্রায় ৫৫ বছর ধরে শ্রমিকদের ওভারটাইম দেওয়ার প্রথা চালু ছিল। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নতুন মহাপরিচালক ড. মো. খালেকুজ্জামান দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। বহিরাগত শ্রমিক এনে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ে কাজ করানো হচ্ছে।
শ্রমিকদের দাবি, নিয়মিত শ্রমিকদের দিয়ে অতিরিক্ত কাজ করানোর পরিবর্তে ব্রি মহাপরিচালক খামার বিভাগের সঙ্গে যোগসাজশে বহিরাগত ও অনভিজ্ঞ শ্রমিক নিয়োগ দিয়ে কাজ করাচ্ছেন। এতে একদিকে নিয়মিত শ্রমিকেরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, অন্যদিকে অতিরিক্ত বিল-ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও তুলেছেন তাঁরা।
শ্রমিকেরা আরও বলেন, প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত তাঁদের নিয়মিত কর্মঘণ্টা। এরপর বেলা ২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ওভারটাইম হিসেবে অতিরিক্ত কাজ করতেন। দৈনিক ৬০০ টাকা মজুরির পাশাপাশি অতিরিক্ত চার ঘণ্টার জন্য ৩০০ টাকা পেতেন; যা তাঁদের আয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। ওভারটাইম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাঁদের জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে।
শ্রমিক জামাল হোসেন বলেন, ‘আগে নিয়মিত ওভারটাইম পেতাম। এখন তা বন্ধ করে মাসে মাত্র আটটি ওভারটাইম দেওয়া হয়। তা-ও শুক্রবারে কাজ দেওয়া হয়। শুক্রবার আমাদের সাপ্তাহিক ছুটি হলেও সেই অধিকার থেকেও বঞ্চিত করা হচ্ছে।’
তবে ব্রি সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে ৪১৮ জন শ্রমিক কর্মরত আছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন আঞ্চলিক স্টেশনসহ মোট শ্রমিকসংখ্যা আট শতাধিক।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ব্রির মহাপরিচালক ড. মো. খালেকুজ্জামানের মোবাইল ফোনে কল করা হলে তিনি মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
খামার বিভাগের প্রধান ড. মো. মামুনুর রহমানের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ব্যস্ততার অজুহাতে কথা বলতে রাজি হননি।