গাজীপুরের শ্রীপুরে বকেয়া বেতনের দাবিতে স্থানীয় একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন। এ সময় পুলিশ-শ্রমিকদের মধ্যে কয়েক দফা পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড-লাঠিপেটায় নারীসহ বেশ কিছু শ্রমিক আহত হয়েছেন।
আজ বৃহস্পতিবার শ্রীপুর গড়গড়িয়া মাস্টার বাড়ি বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, পৌরসভার বৈরাগীরচালা এলাকার লাক্সমা ইনারওয়্যার লিমিটেড নামক পোশাক কারখানার শ্রমিকদের দুই মাসের বেতন বকেয়া পড়ে। কর্তৃপক্ষ আজকে-কালকে দিচ্ছি বলে করে সময় ক্ষেপণ করছে। বৃহস্পতিবার বেতন পরিশোধ করার কথা বলে সকাল থেকে আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছে। পরে শ্রমিকেরা গড়গড়িয়া মাস্টার বাড়ি বাজার আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন।
পুলিশ শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে সাউন্ড গ্রেনেড ও লাঠিপেটা করে। এ সময় পুলিশ শ্রমিকদের মধ্যে কয়েক দফা পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পুলিশের লাঠিপেটায় নারীসহ বেশ কিছু শ্রমিক আহত হন।
জানতে চাইলে মনির হোসেন নামের এক শ্রমিক জানান, গত দুই মাসের বেতন বকেয়া। দেয়-দিচ্ছি করে শুধু সময় ক্ষেপণ করছে কর্তৃপক্ষ। আজ বেতন পরিশোধ করার কথা বলে সকাল থেকে আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু বেতন যাঁদের দেওয়ার কথা তাঁরা কারখানায় নেই।
তিনি বলেন, ‘আমরা যখন সড়কে নামলাম তখন পুলিশ আসল, সবাই আসল। অথচ দুই মাস ধরে ঘুরছি কেউ আসেনি। পুলিশ লাঠিপেটা করে, সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। আমাদের নারী শ্রমিকসহ অনেক আহত হয়েছে। তাদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’
আরেক শ্রমিক লিপি আক্তার বলেন, ‘পুলিশ এসে শ্রমিকদের কথা না শুনে সমানতালে লাঠিপেটা শুরু করল। আমরা যে নারী সেটিও মানেনি। অনেকেই আহত হয়েছে। অনেক শ্রমিকের শরীরের রক্ত ঝরছে। আমাদের ন্যায্য পাওনার জন্য পুলিশের লাঠিপেটা খেতে হচ্ছে। আমাদেরও তো সন্তান-সংসার মা-বাবা রয়েছে। তারা মাস শেষে আমাদের দিকে তাকিয়ে থাকে।’
অভিযোগের বিষয়ে কারখানার জেনারেল ম্যানেজার নাজমুল হোসেন আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘বকেয়া বেতন পরিশোধের কথা ছিল। কিন্তু এর আগেই কারখানার শ্রমিকেরা রাস্তা অবরোধ করে। পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। কয়েকজন শ্রমিক আহত হয়েছে। তাদের চিকিৎসার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
এ বিষয়ে শিল্প পুলিশের পরিদর্শক স্বপন কুমার আজকের পত্রিকাকে বলেন, রাস্তা অবরোধ করার পরপরই শিল্প পুলিশ তাঁদের সরে যেতে বলে। এতে শ্রমিকেরা ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশের ওপর চড়াও হন। ইটপাটকেল ছোড়েন। পরে পুলিশ কয়েকটি সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। কয়েকজন শ্রমিক আহত হন।