হোম > সারা দেশ > গাজীপুর

গাজীপুরে ৫ জনকে হত্যা: ময়নাতদন্ত সম্পন্ন, মরদেহ যাচ্ছে গোপালগঞ্জে

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি  

পাঁচজন হত্যার ঘটনায় কান্নায় ভেঙে পড়েন এক স্বজন। তাঁকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেন অন্যরা। ছবি: আজকের পত্রিকা

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় গলা কেটে হত্যার শিকার তিন শিশু, তাদের মা ও মামার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল শনিবার রাতে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে আজ ভোরে পাঁচটি মরদেহ নিয়ে গোপালগঞ্জের উদ্দেশে রওনা দেন স্বজনেরা।

কাপাসিয়ার রাউৎকোনা গ্রামে শারমিন (৩৫), তাঁর সন্তান মিম (১৬), মারিয়া (৮), ফারিয়া (২) এবং শারমিনের ভাই রসুলের (২২) রক্তাক্ত মরদেহ পাওয়া যায়। গত শুক্রবার দিবাগত রাতে এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত শারমিনের স্বামী ফোরকান মিয়া পলাতক রয়েছেন। তিনি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার মেরি গোপীনাথপুর গ্রামের মো. আতিয়ার হাসান মোল্লার ছেলে। পারিবারিক কলহের জেরে ফোরকান পাঁচজনকে হত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।

গাজীপুর জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়ার নির্দেশে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সালমা খাতুন, কাপাসিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তামান্না তাসনীম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নাহিদুল হক এবং জেলা প্রশাসনের দুজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সাধারণত শনিবার বেলা ২টার পর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজে ময়নাতদন্ত কার্যক্রম বন্ধ থাকে। তবে নিহত ব্যক্তিদের লাশ গোপালগঞ্জে নিতে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম থাকায় দ্রুত পচন ধরার আশঙ্কা বিবেচনা করে জেলা প্রশাসক সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে শনিবারই পাঁচজনের ময়নাতদন্ত সম্পন্নের ব্যবস্থা করেন।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গোপালগঞ্জে মরদেহ নেওয়ার জন্য দুটি ফ্রিজিং গাড়ির ব্যবস্থা করা হয়।

শনিবার সন্ধ্যায় কাপাসিয়া থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়। নিহত শারমিনের বাবা শাহদাত মোল্লা বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় অভিযুক্ত গৃহকর্তা ফোরকান মিয়াকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও তিন-চারজনকে আসামি করা হয়েছে।

কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনুর আলম মামলা হওয়ার বিষয়টি আজকের পত্রিকাকে নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ফোরকান মিয়া পলাতক রয়েছেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কাপাসিয়া-কালীগঞ্জ সার্কেল) আসাদুজ্জামান বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, গৃহকর্তা ফোরকান মিয়াই পাঁচজনকে জবাই করে হত্যা করেছেন। তবে কীভাবে একসঙ্গে পাঁচজনকে হত্যা করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিহত ব্যক্তিদের নেশাজাতীয় দ্রব্য বা ঘুমের ওষুধ প্রয়োগ করা হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সালমা খাতুন বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। দ্রুত তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা হবে।

গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. শরীফ উদ্দীন বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দুজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

গাজীপুরে গরুচোর সন্দেহে ৩ জনকে পিটিয়ে হত্যা

গাজীপুরে ৫ হত্যা: মরদেহগুলোর ওপর ছিল লিখিত অভিযোগ, যা লেখা আছে

গাজীপুরে তিন শিশুসন্তান, স্ত্রী ও শ্যালককে হত্যা: ফোনকলে স্বীকারোক্তি দিয়ে পলাতক অভিযুক্ত

গাজীপুরে গভীর রাতে একই পরিবারের ৫ সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা

সহপাঠীদের সঙ্গে পুকুরে গোসলে নেমে শিশুর মৃত্যু

শ্রীপুরে টানা ৪০ ঘণ্টা বিদ্যুৎবিহীন দুই গ্রাম, জনজীবন বিপর্যস্ত

গাজীপুরে তারেক জিয়া সড়কের নাম পরিবর্তনের প্রতিবাদে মানববন্ধন

শ্রীপুরে পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু

জামিনের ৬ দিন পর কারামুক্ত হলেন ঢাকসুর সাবেক নেত্রী ইমি

শ্রীপুরে কালবৈশাখীতে লন্ডভন্ড তিন গ্রাম