গাজীপুরের কালীগঞ্জে সড়কের পাশ থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক মধ্যবয়সী ব্যক্তির বীভৎস মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের মুখমণ্ডল ও গলায় ধারালো অস্ত্রের গভীর আঘাতের চিহ্ন দেখে স্থানীয়দের ধারণা, এটি একটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। মঙ্গলবার (২ জুন) সকালে উপজেলার তুমুলিয়া ইউনিয়নের বঙ্গবন্ধু বাজার এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার ভোরে বঙ্গবন্ধু বাজারসংলগ্ন সড়কের পাশে রক্তাক্ত অবস্থায় এক ব্যক্তিকে পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। কাছে গিয়ে দেখা যায়, লোকটির নিথর দেহ পড়ে আছে এবং চারপাশ রক্তে রঞ্জিত। খবরটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে সংবাদ পেয়ে কালীগঞ্জ থানা-পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে মরদেহটি উদ্ধার করে।
নিহতের শরীরের জখমগুলো অত্যন্ত ভয়াবহ। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নিহতের মুখের ডান দিকে কোনো ভারী বা ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে বীভৎস করে ফেলা হয়েছে। এ ছাড়া গলার মাঝখানেও ধারালো অস্ত্রের গভীর ক্ষত রয়েছে। আঘাতের ধরন ও ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি দেখে পুলিশ ও স্থানীয়দের ধারণা, অন্য কোথাও হত্যার পর খুনিরা নির্জন স্থান হিসেবে মরদেহটি এখানে ফেলে রেখে গেছে।
নিহতের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশের ভাষ্যমতে, নিহতের আনুমানিক বয়স ৫৫ বছর। তার পরনে ছিল একটি জলপাই-সবুজ রঙের টি-শার্ট এবং সাদা রঙের চেক ট্রাউজার। পরিচয় শনাক্তের জন্য আশপাশের এলাকাগুলোতে সংবাদ পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছি। নিহতের মুখ এবং গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে, যা প্রাথমিকভাবে একটি হত্যাকাণ্ড বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। আমরা লাশের পরিচয় শনাক্তের জন্য আঙুলের ছাপ (ফিঙ্গারপ্রিন্ট) সংগ্রহের পাশাপাশি আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য আলামত সংগ্রহের চেষ্টা করছি। আশা করছি দ্রুতই নিহতের পরিচয় এবং এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করতে সক্ষম হব।’