গাজীপুরের বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটে (ব্রি) নতুন মহাপরিচালক (ডিজি) নিয়োগকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। নবনিযুক্ত ডিজি ড. মো. আমিনুল ইসলামকে ‘ফ্যাসিবাদের দোসর ও দুর্নীতিবাজ’ আখ্যা দিয়ে নিয়োগ বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ করছে বিজ্ঞানী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশ। বিপরীতে নিয়োগকে সঠিক দাবি করে পাল্টা অবস্থান নিয়েছে আরেকটি পক্ষ।
গতকাল সোমবার সকাল থেকেই দুপক্ষ ব্যানার ও বিপুলসংখ্যক লোকবল নিয়ে ব্রি মহাপরিচালকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে পাল্টাপাল্টি স্লোগান দিতে থাকে। এ সময় আন্দোলনকারীরা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কক্ষে তালা ঝুলিয়ে কর্মবিরতি পালন করেন। দুপুরের দিকে মহাপরিচালক কার্যালয়ে এলে মারমুখী হয়ে পড়েন বিরোধী আন্দোলনকারীরা। এ সময় পুলিশ প্রহরায় তিনি কার্যালয়ে অবস্থান নেন।
আন্দোলনকারী একাংশের অভিযোগ, এক মাস থেকে ব্রির মহাপরিচালক পদ শূন্য। যাঁকে ডিজি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে তিনি বিগত সরকারের আমলের সুবিধাভোগী এবং দোসর। জাতীয়তাবাদী শক্তি এই নিয়োগ মানে না। তাঁর নিয়োগ বাতিল না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
ব্রির বিজ্ঞানী সমিতির সহসভাপতি ড. এ বি এম আনোয়ার উদ্দিন বলেন, নতুন ডিজি কুমিল্লায় দায়িত্বকালীন দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন—এমন তথ্যপ্রমাণ রয়েছে। এ ছাড়া ফ্যাসিস্ট আমলে শোক দিবস পালনে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন।
সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. হাবিবুর রহমান মুকুল বলেন, ‘নতুন ডিজির সঙ্গে আমার কোনো ব্যক্তিগত বিরোধ নেই। এই প্রতিষ্ঠানেই কাজ করতেন। কিন্তু সমস্যা আছে, তিনি ফ্যাসিস্টের দোসর ছিলেন, যা তদন্ত রিপোর্টে প্রমাণিত। তিনি আওয়ামী লীগ আমলে সিনিয়রকে ডিঙিয়ে ক্ষমতা খাটিয়ে পদ বাগিয়ে নিয়েছিলেন। তাঁকে ডিজি নিয়োগ দিয়েছে এই খবর শুনে ব্রির সর্বস্তরের বিজ্ঞানী ও শ্রমিকেরা বিক্ষোভ করছেন।’
নতুন ডিজি পক্ষের বিক্ষোভকারীরা বলছেন, ‘ডিজি ছিল না বলে গত এক মাসের বেতন তাঁরা পাননি। এখন যেহেতু মন্ত্রণালয় থেকে ডিজি নিয়োগ দিয়েছে, আমরা তাঁকে স্বাগতম জানানোর জন্য অবস্থান নিয়েছি।’
এদিকে বিগত সরকারের আমলে নানাভাবে বঞ্চিত হয়েছেন উল্লেখ করে নতুন মহাপরিচালক আমিনুল ইসলাম বলছেন, ‘রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে তাঁকে মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এটা নিয়ে কারা বিরোধিতা করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্ত হবে।’ এখানে বাইরের স্বার্থান্বেষী মহলের ইন্ধন রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।