গাজীপুরের কালিয়াকৈর পৌরসভার পল্লী বিদ্যুৎ দীঘিরপাড় এলাকায় অবস্থিত আহসান কম্পোজিট কারখানায় বার্ষিক ছুটির বকেয়া টাকার দাবিতে শ্রমিকেরা কর্মবিরতি পালন করে বিক্ষোভ ও ভাঙচুর চালিয়েছেন। মঙ্গলবার সকালে তাঁরা বিক্ষোভ ও ভাঙচুর চালান। এ সময় পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে কারখানার ৯ কর্মকর্তা, পুলিশ সদস্য, শ্রমিকসহ কমপক্ষে ২০ জন আহত হন। তাঁদের উদ্ধার করে উপজেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে।
কারখানা, শ্রমিক ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার শ্রমিকদের মধ্যে বার্ষিক ছুটির টাকার স্লিপ বিতরণ করা হয়। তবে শ্রমিকেরা শতভাগ বকেয়া টাকা পরিশোধের দাবি জানিয়ে মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে কর্মবিরতি শুরু করে বিক্ষোভে নামেন। একপর্যায়ে কারখানা কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করতে চাইলে শ্রমিকেরা উত্তেজিত হয়ে অফিসকক্ষে ভাঙচুর চালান। এ সময় অফিসের থাই গ্লাস, জানালা, দরজা, টেবিল, কয়েকটি কম্পিউটার ও ল্যাপটপ ভাঙচুর করা হয়।
ঘটনার সময় অফিসকক্ষে থাকা কারখানার প্রোডাকশন ম্যানেজার মাজহারুল ইসলাম, সহকারী প্রোডাকশন ম্যানেজার নুর নবী, আলতাফ হোসেনসহ ৯ কর্মকর্তা আহত হন।
পরে খবর পেয়ে শিল্প পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে শ্রমিকেরা তাঁদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কয়েকটি ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কয়েকজন নারী শ্রমিকসহ আরও অনেকে আহত হন।
পরে অতিরিক্ত শিল্প পুলিশ ও র্যাব সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। আহত কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
কারখানার (অ্যাডমিন) প্রশাসনিক কর্মকর্তা জামাল হোসেন জানান, শ্রমিকেরা বার্ষিক ছুটির টাকার জন্য হঠাৎ কর্মবিরতি দিয়ে আন্দোলন শুরু করেন। তাঁদের বুঝিয়ে কাজে ফেরানোর চেষ্টা করলে তাঁরা অফিসকক্ষে ভাঙচুর চালান এবং বাধা দিতে গেলে ৯ কর্মকর্তাকে রড দিয়ে পিটিয়ে আহত করেন।
শিল্প পুলিশের ওসি মোরশেদ জামান বলেন, শ্রমিকেরা সকাল থেকে আন্দোলন করছিলেন। কয়েক দফা আলোচনা চেষ্টা করা হলেও তাঁরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।