গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে খড় শুকানোকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে পরিকল্পিত অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার শান্তিরাম ইউনিয়নের ফোরকানিয়া বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৪টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পুড়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দাবি, নগদ অর্থ, মালামালসহ অর্ধকোটি টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
শনিবার ভোররাতে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে সুন্দরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের তথ্যমতে, সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন মুদি ব্যবসায়ী মো. লেবু মিয়া। তাঁর দোকানের প্রায় ১৫ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে গেছে। এ ছাড়া আজিজুর রহমান (লালটু) পরিচালিত মুদি ও ভ্যারাইটিজ স্টোরে প্রায় আট লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
এ ছাড়া টি-স্টল, ওষুধের দোকান, টেলিকম, কাঁচামাল, কনফেকশনারি, কীটনাশক ও সারের দোকানসহ আরও ১২টি প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রাথমিক হিসাবে মোট ক্ষতির পরিমাণ অর্ধকোটি টাকারও বেশি বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। স্থানীয়দের দাবি, আগুনে আশপাশের কয়েকটি ঘরবাড়িও আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা জানান, ধানের খড় (পল) শুকানোকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কয়েকজনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। তাঁদের ধারণা, ওই বিরোধের জেরেই পরিকল্পিতভাবে আগুন লাগানো হয়ে থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের শনাক্তের দাবি জানিয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী মিজানুর রহমান জানান, ভোররাত ৪টার দিকে বিকট শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। বাইরে এসে তিনি বাজারে আগুন জ্বলতে দেখেন। স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় তা সম্ভব হয়নি।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী আজিজুর রহমান বলেন, ‘আগেও কয়েকবার আমার দোকানে চুরি হয়েছে। এবার আগুনে সবকিছু পুড়ে গেছে। বহু বছরের পরিশ্রমে গড়ে তোলা ব্যবসা মুহূর্তেই শেষ হয়ে গেল। ব্যাংক ঋণের কিস্তি কীভাবে পরিশোধ করব, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।’
সুন্দরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন অফিসার মো. লিটন জানান, ভোর ৩টা ৪০ মিনিটে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে কাজ চলছে।
শান্তিরাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ বি এম মিজানুর রহমান খোকন বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের তালিকা প্রস্তুত করে উপজেলা প্রশাসনের কাছে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের সহায়তার বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চলছে।