গাইবান্ধার দুটি মহিলা কলেজ থেকে এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া তিন পরীক্ষার্থীর কেউই পাস করতে পারেননি। এর মধ্যে একটি কলেজে টানা তিন বছর কোনো পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারেননি। ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার ফলাফলে এমন চিত্র দেখা গেছে।
আজ শনিবার প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীন শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠান দুটি হলো পলাশবাড়ী উপজেলার ফকিরহাট মহিলা কলেজ ও সাঘাটা উপজেলার জুমারবাড়ী মহিলা কলেজ। এর মধ্যে ফকিরহাট মহিলা কলেজ থেকে দুজন এবং জুমারবাড়ী মহিলা কলেজ থেকে একজন পরীক্ষায় অংশ নেন। তাঁদের কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেননি।
ফকিরহাট মহিলা কলেজের ফলাফল আরও উদ্বেগজনক। গত তিন বছর ধরে এ কলেজের কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারছেন না। অন্যদিকে, কলেজ দুটি থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা এত কম কেন এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার পরিবেশ কেমন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ফলাফল নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় বোর্ডের অধীন ৪৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেননি। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে গাইবান্ধার এ দুটি কলেজও রয়েছে। কলেজ দুটি নন-এমপিওভুক্ত। দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত প্রতিষ্ঠান দুটি এমপিওভুক্ত হয়নি।
এ বিষয়ে সাঘাটার জুমারবাড়ী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষের সঙ্গে তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
পলাশবাড়ীর ফকিরহাট মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মাহবুবার রহমান রশিদ বলেন, এ বছর মানবিক বিভাগ থেকে নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে দুজন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। তাঁদের কেউই পাস করেননি।
মাহবুবার রহমান রশিদ বলেন, ২০০০ সালে কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হলেও এখন পর্যন্ত শুধু পাঠদানের অনুমোদন পাওয়া গেছে। প্রতিষ্ঠানটি আজও এমপিওভুক্ত হয়নি। অনেক শিক্ষকই এমপিওভুক্তির আশা ছেড়ে দিয়েছেন। এ কারণে তাঁরা প্রতিষ্ঠানে আসেন না। তাঁদেরও তো সংসার আছে। বিনা বেতনে কত দিন পড়াবেন? শিক্ষকদের এমন পরিস্থিতির কারণে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। ফলে ভালো ফলাফল করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান অধ্যক্ষ।