গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণ ও উড়ালসড়ক (ফ্লাইওভার) নির্মাণকাজ চলমান থাকায় ঈদযাত্রায় তীব্র যানজটের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। মহাসড়কের নির্মাণকাজে এক্সকাভেটর (ভেকু), সিমেন্ট মিক্সার মেশিন ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি বালু, রড ও পাথর পরিবহনে ট্রাক চলাচল করছে। এতে সড়কের কিছু অংশ সরু হয়ে গেছে। ফলে এই এলাকায় প্রায়ই যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। ঈদকে সামনে রেখে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বাড়লে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে মনে করছেন চালক, স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীরা।
গোবিন্দগঞ্জের এই মহাসড়ক দিয়ে উত্তরাঞ্চলের অন্তত আট জেলার মানুষ যাতায়াত করেন। পাশাপাশি গোবিন্দগঞ্জের চারমাথা মোড়কে রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলার প্রবেশদ্বার হিসেবেও ধরা হয়।
গাইবান্ধা সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ জানায়, ঢাকা-রংপুর জাতীয় মহাসড়কের ৩২ কিলোমিটার অংশ গাইবান্ধা জেলায় পড়েছে। এর দক্ষিণে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ফাঁসিতলা থেকে উত্তরে সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট পর্যন্ত এই অংশ বিস্তৃত। এর মধ্যে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার পান্তাপাড়া থেকে গোবিন্দগঞ্জ মহিলা কলেজ পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকায় ফ্লাইওভার ও র্যাম্প নির্মাণ এবং মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করার কাজ চলছে।
সূত্রটি আরও জানায়, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে আন্তযোগাযোগ বৃদ্ধির প্রকল্প সাউথ এশিয়ান সাবরিজিওনাল ইকোনমিক কো-অপারেশনের (সাসেক) আওতায় ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করা হচ্ছে। গাইবান্ধা অংশের কাজের দরপত্র আহ্বান করা হয় ২০১৮ সালে। কাজটি পায় চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না স্টেট কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন (সিএসসিইসি)। ২০১৯ সালের জুলাইয়ে কাজ শুরু হয়। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখনো তা শেষ হয়নি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, গোবিন্দগঞ্জে ফ্লাইওভার নির্মাণকাজের জন্য মহাসড়কের মাঝখানের কিছু অংশ টিন দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। এর দুই পাশে সরু সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। নির্মাণকাজের জন্য সড়কের দুই ধারে বালুর স্তূপও রাখা হয়েছে। ফলে ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গগামী যানবাহনগুলো গোবিন্দগঞ্জের চারমাথা এলাকায় এসে আটকে পড়ছে। একইভাবে ঢাকাগামী যানবাহনগুলোকেও থেমে থাকতে হচ্ছে।
চারমাথা চৌরাস্তা থেকে একটি সড়ক পশ্চিমে দিনাজপুরের দিকে এবং পূর্বে গোবিন্দগঞ্জ-মহিমাগঞ্জ সড়কের দিকে গেছে। ফলে চারদিক থেকে আসা যানবাহনগুলো ধীরগতিতে চৌরাস্তা অতিক্রম করছে।
ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়ি সাদুল্লাপুরে যাচ্ছিলেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা তানজিমুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘গোবিন্দগঞ্জে প্রায়ই যানজটের কারণে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। ঈদের সময় এই যানজট আরও ভয়াবহ হতে পারে।’
গোবিন্দগঞ্জের ব্যবসায়ী সোলায়মান সরকার বলেন, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটাতে মানুষ কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরে। এ সময় মহাসড়কে নিয়মিত যানবাহনের পাশাপাশি অতিরিক্ত গাড়ির চাপ পড়ে। এতে এই অংশে বড় ধরনের যানজটের আশঙ্কা রয়েছে।
এই রুটে চলাচলকারী বাসচালক খাজা মিয়া বলেন, ‘মহাসড়কের ছয় লেনের কাজ সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও রংপুর অংশে প্রায় শেষ। ফলে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা যানবাহন দ্রুত গোবিন্দগঞ্জে চলে আসে। কিন্তু এখানে ফ্লাইওভার ও ছয় লেনের কাজ চলায় সড়ক সরু হয়ে গেছে। এতে দুই দিকের গাড়ির চাপে যানজট তৈরি হয়।’
আরেক বাসচালক আশরাফুল ইসলাম বলেন, ঈদের সময় প্রাইভেট কার, মোটরসাইকেল ও পোশাকশ্রমিকদের বহনকারী বাসের সংখ্যা বাড়ে। এ ছাড়া সড়কের পাশে যাত্রীর অপেক্ষায় থাকা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, সিএনজি ও রিকশাভ্যানও যানজটের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
গোবিন্দগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাফ্ফর হোসেন বলেন, যানজট নিরসনে হাইওয়ে পুলিশ, থানা-পুলিশ, ট্রাফিক পুলিশ, আনসার সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ে ১০টি দল কাজ করবে।
গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক বলেন, ঈদের সময় যানজট নিয়ন্ত্রণে এই এলাকায় পুলিশের ৩০ থেকে ৪০ জন সদস্য সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন।
গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা বলেন, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে গোবিন্দগঞ্জ চৌরাস্তা এলাকায় পুলিশ বক্স স্থাপন এবং স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।