গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের গাফিলতিতে ১৫০ শিক্ষার্থীর এসএসসি পরীক্ষা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। বিষয়টি জানাজানি হলে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। তবে পরীক্ষার আগেই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে বলে জানান প্রধান শিক্ষক।
জানা যায়, আগামী বুধবার থেকে সারা দেশে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষা শুরু হবে। উপজেলার কঞ্চিপাড়া এম এ ইউ একাডেমিক বিদ্যালয়ের ২১২ শিক্ষার্থী চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
এসব পরীক্ষার্থী স্কুল থেকে প্রবেশপত্র (অ্যাডমিট কার্ড) তুলতে দিয়ে দেখে কারও মা, কারও বাবার নাম ভুল, আবার ছেলে পরীক্ষার্থীর ছবির জায়গায় মেয়ের ছবি। বিজ্ঞান বিভাগের প্রবেশপত্রে আসে মানবিক বিভাগ। আবার কিছু পরীক্ষার্থীর প্রবেশপত্রই আসেনি।
পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক মো. রায়হান সরকার বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কম্পিউটার অপারেটরের সহযোগিতা না নিয়ে বাইরের দোকান থেকে কাজ করার কারণে প্রবেশপত্রে এ ধরনের ভুল হয়েছে।
জানা যায়, চলতি এসএসসি পরীক্ষায় কঞ্চিপাড়া এম এ ইউ একাডেমিক বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে ৬৮, মানবিকে ১৪৫ জনসহ মোট ২১২ জন অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
কয়েক দিন আগে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তাদের পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র হাতে তুলে দেয়। কিন্তু এই বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র (অ্যাডমিট) ভুলে ভরা।
এদিকে বিষয়টি জানাজানি হলে পরীক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা স্কুলে ভিড় করছেন। বিদ্যালয়টির মাঠে সব পরীক্ষার্থীর চোখ-মুখে আতঙ্কের ছাপ লক্ষ করা গেছে।
স্থানীয়রা জানান, প্রধান শিক্ষক রায়হান সরকার বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের টাকা থেকে বঞ্চিত করতেই তিনি একা বাইরে কম্পিউটারের দোকানে কাজ করতে গিয়ে এই অবস্থার সৃষ্টি করেছেন।
জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক মো. রায়হান সরকার বলেন, ‘আমার কারণে ভুল হয়েছে। আমি সমাধান করে দেব। একজন পরীক্ষার্থীও পরীক্ষা থেকে বাদ পড়বে না। সে ব্যবস্থা করা হচ্ছে। কাউকে টেনশন করতে হবে না।’
এ বিষয়ে ফুলছড়ি উপজেলা মাধ্যমিক অফিসার সৈয়দ মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘এসব বিষয় দেখা আমার কাজ না। শিক্ষা বোর্ড ও প্রধান শিক্ষক এসব দেখার বিষয়।’ কোনগুলো দেখা আপনার কাজ—এমন প্রশ্ন করলে তিনি সংযোগবিচ্ছিন্ন করে দেন।
ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘এই প্রথম বিষয়টি আপনার কাছ থেকে জানলাম। ওই বিদ্যালয়ের কোনো পরীক্ষার্থীই যেন পরীক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।’