কনের বাড়িতে আলোকসজ্জায় সাজানো হয়েছে গেট, সাজানো হয়েছে বাড়িঘর। গতকাল বৃহস্পতিবার ছিল গায়েহলুদ, আজ শুক্রবার বিয়ে। বরের বাড়িতেও বিয়ের আনন্দে চলছিল প্রস্তুতি। কিন্তু মুহূর্তেই সেই আনন্দ রূপ নেয় বিষাদে। বিয়ের আগের দিনই মৃত্যুর খবর আসে বর আরিফ শাহরিয়ার সৌমিকের।
গতকাল সন্ধ্যায় গাইবান্ধা শহরের ডেভিড কোম্পানিপাড়ায় সৌমিকের বাড়িতে শোকের ছায়া নেমে আসে। একই সঙ্গে কনের বাড়িতেও বিয়ের আনন্দ রূপ নেয় শোকে। স্বজন, প্রতিবেশী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা স্তব্ধ হয়ে পড়েন।
আরিফ শাহরিয়ার সৌমিকের বয়স ২১ বছর। তিনি নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি থেকে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিষয়ে প্রথম শ্রেণিতে দ্বিতীয় হয়ে উত্তীর্ণ হন।
সৌমিকের বড় বোন শারমিন সুলতানা জানান, সৌমিক এক মাস আগে ঢাকা থেকে বাড়িতে আসেন। গত চার দিন ধরে তিনি জ্বরে ভুগছিলেন। শরীরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে গতকাল সকাল ৯টার দিকে তাঁকে গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতাল এলাকার বেসরকারি মাইশা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নেওয়া হয়।
শারমিনের অভিযোগ, সেখানে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর বেলা ১টার দিকে চিকিৎসক মনির হোসেন মুরাদ ব্যবস্থাপত্র দেন। এরপর ওষুধ নিয়ে সৌমিককে বাড়িতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
বিকেলে সৌমিকের শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে সাড়ে ৫টার দিকে তাঁকে গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। শারমিনের অভিযোগ, জরুরি বিভাগের সামনে প্রায় এক ঘণ্টা তাঁকে রিকশায় বসিয়ে রাখা হয়। পরে চিকিৎসক সৌমিককে মৃত ঘোষণা করেন।