ফেনীতে দাম্পত্য কলহের জেরে এক যুবকের এলোপাতাড়ি কোপে ফিরোজা আক্তার (২৩) নামের এক নারী গুরুতর জখম হয়েছেন। ফিরোজাকে বাঁচাতে গিয়ে আফসানা আক্তার (৩০) নামের আরেক নারীর বাঁ হাত কবজি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শহরের আদালতপাড়া এলাকার আজমীরী বেগম সড়কের নুর জাহান মঞ্জিলের ছয়তলায় এই ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত যুবক সুজনকে আটক করেছে পুলিশ।
অভিযুক্ত সুজন (২৭) কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার চিওড়া এলাকার মৃত সুরুজ মিয়ার ছেলে। তিনি ফিরোজা আক্তারের স্বামী এবং পেশায় অটোরিকশাচালক।
আহত ফিরোজা ও আফসানা শহরের হাজারী রোডে একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। কাজের সূত্রে তাঁরা একই বাসায় ভাড়া থাকেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্র জানায়, ওই বাসায় আফসানা, ফিরোজাসহ চারজন ভাড়া থাকেন। সুজন ও ফিরোজার মধ্যে দাম্পত্য কলহ চলছিল। গতকাল সন্ধ্যায় সুজন ওই বাসায় গিয়ে ধারালো রামদা নিয়ে হামলা চালান। বাসায় ঢুকেই তিনি স্ত্রী ফিরোজাকে কোপাতে থাকেন। ফিরোজার চিৎকার শুনে আফসানা বাধা দিতে গেলে তাঁকেও এলোপাতাড়ি কোপানো হয়।
আফসানার বোন আয়েশা আক্তার বলেন, ‘আমরা ঘরেই ছিলাম। হঠাৎ লোকটা লম্বা একটা ছুরি নিয়ে ঢুকে তার স্ত্রীকে কোপাতে শুরু করে। আমার বোন বাধা দিলে তাকেও কোপায়। আমি ভয়ে দৌড়ে ছাদে চলে যাই।’
ফেনী জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জানান, আহত দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আফসানার বাঁ হাত কবজি থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং ফিরোজার বাঁ হাতের চারটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বিচ্ছিন্ন দেহাংশসহ তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মুহাম্মদ ফৌজুল আজিম বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, দাম্পত্য কলহের কারণে ফিরোজা স্বামীকে ছেড়ে শহরের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চাকরি নেন এবং ওই ভবনে সহকর্মীদের সঙ্গে থাকতেন। স্ত্রী পরকীয়ায় জড়িত এমন সন্দেহ থেকেই হামলা চালানোর দাবি করেছেন সুজন। পরবর্তী জিজ্ঞাসাবাদে বিস্তারিত জানা যাবে।
ফেনী জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মর্ম সিংহ ত্রিপুরা বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তির দেখানো স্থান থেকে হামলায় ব্যবহৃত রামদা উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।