ফেনীতে ঈদুল আজহার দিন কোরবানির পশু জবাই ও মাংস কাটতে গিয়ে শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। এর মধ্যে হাতের রগ কেটে যাওয়া ও গুরুতর জখম হওয়া অন্তত ২০ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) পাঠানো হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ফেনী জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আহত ব্যক্তিরা চিকিৎসা নেন।
ফেনী জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসায় নিয়োজিত পলাশ বলেন, সকাল থেকেই একের পর এক আহত রোগী এসেছে। বেশির ভাগের হাতের আঙুল ও রগ কেটে গেছে। কেউ গরু ধরতে গিয়ে আহত হয়েছেন, আবার কেউ মাংস কাটার সময় ধারালো দা বা ছুরির আঘাতে জখম হয়েছেন। দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে গুরুতর আহত ব্যক্তিদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার্ড করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম মেডিকেলে রেফার্ড হওয়া আহত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন ফেনীর বালুকিয়া এলাকার মো. জাহিদ (৩০)। সকালে গরু জবাইয়ের সময় তাঁর হাতের রগ কেটে যায়। পরে তাঁকে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তাঁর স্বজন মো. রাসেল বলেন, গরু জবাই করার সময় হঠাৎ ছুরি পিছলে হাতে লাগে। পরে রক্ত বন্ধ না হওয়ায় দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকেরা চিকিৎসা দিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেলে নিয়ে যেতে বলেন।
সকাল ১০টার দিকে নোয়াখালীর সেনবাগের বিজবাগ এলাকার আবদুল মান্নানের ছেলে মনসুর (৪০) গুরুতর আহত অবস্থায় ফেনী জেনারেল হাসপাতালে এলে তাঁকেও চট্টগ্রাম মেডিকেলে রেফার্ড করা হয়েছে। তাঁর স্বজন আবদুল কাদের বলেন, মাংস কাটার সময় দা হাতের ওপর পড়ে গভীর ক্ষত হয়। ফেনী হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক জানান, রগ কেটে গেছে। তাই উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে পাঠানো হয়েছে।
একইভাবে বেলা পৌনে ১১টার দিকে সোনাগাজীর চরচান্দিয়া এলাকার সেরাজুল ইসলামের ছেলে নজরুল ইসলামকে (২৮) হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ফেনী জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক পিয়াস কান্তি পাল বলেন, ঈদের দিন সকাল থেকেই কোরবানির পশু জবাই ও মাংস কাটার সময় অসাবধানতাবশত আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। আহত ব্যক্তিদের বেশির ভাগের হাত, আঙুল ও পায়ের বিভিন্ন স্থানে গভীর ক্ষত হয়েছে। গুরুতর আহত অন্তত ২০ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।