ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ফেনীর খাইয়ারা রাস্তার মাথা এলাকায় সড়কের পাশে থেমে থাকা একটি সিলিন্ডারবোঝাই ট্রাকের পেছনে কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় দুজন নিহত ও অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে পাঁচজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দিবাগত রাত ২টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ, হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম থেকে আসা একটি সিলিন্ডারবোঝাই ট্রাকের চাকা পাংচার হলে সেটি মহাসড়কের পাশে থামিয়ে চালক ও হেলপার চাকা পরিবর্তনের কাজ করছিলেন। এ সময় ঘটনাস্থলে স্থানীয় কয়েকজন উৎসুক মানুষ জড়ো হন। হঠাৎ ঢাকামুখী একটি কাভার্ড ভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাক ও সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা লোকজনকে চাপা দেয়।
খবর পেয়ে মহিপাল হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুজনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে জাহাঙ্গীর (৪০) নামে একজনের পরিচয় জানা গেলেও অপরজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা যায়নি। রাত ৪টা পর্যন্ত নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি।
আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে আবদুর শুক্কুর (৫২), বেলাল হোসেন (৩৭), আরিফুল ইসলাম (৩২), আরিফ (২০) ও মো. রাসেল (৩২)কে। এ ছাড়া ফেনী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন কক্সবাজারের কুতুবদিয়ার মো. মিজান (৩৫) এবং নোয়াখালীর সোনাপুর এলাকার সাগর (২২)। আহত জুয়েল (১৬) প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী শামীম ভূঁইয়া বলেন, ঘটনাস্থলের পাশেই আমার রেস্টুরেন্ট। হঠাৎ বিকট শব্দ শুনে বাইরে এসে দেখি এই অবস্থা। ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয় এবং বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন।
ফাজিলপুর হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদ খাঁন চৌধুরী বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
ফেনী জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মোশাররফ হোসেন তালুকদার বলেন, রাত দুইটার পরপরই অন্তত ১০ জন আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে আনা হয়। তাদের মধ্যে একজন হাসপাতালে আনার আগেই মারা যান। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়। আহতদের অনেকের হাত-পা ও মাথায় গুরুতর আঘাত রয়েছে। জরুরি চিকিৎসা শেষে পাঁচজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দুজনকে হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে এবং একজন চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।