ফরিদপুরে ট্রিপল মার্ডারের ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় একমাত্র অভিযুক্ত যুবক আকাশ মোল্লাকে (২৫) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বেলা ২টার দিকে ফরিদপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে সংবাদ সম্মেলন করেন পুলিশ সুপার (এসপি) নজরুল ইসলাম।
সংবাদ সম্মেলনে এসপি বলেন, ‘তিনি (আকাশ) আমাদের বলেছেন যে তাঁর আশঙ্কা ছিল তাঁকে সবাই মিলে মেরে ফেলবে এবং প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় পরও তাঁকে বিয়ে করানো হচ্ছে না। এ কারণে পরিবারের ওপর তিনি ক্ষুব্ধ। ক্ষুব্ধ এবং আক্রোশের বশীভূত হয়ে তিনি হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছেন।’
ফরিদপুর র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) সহযোগিতায় দ্রুত সময়ের মধ্যে ট্রিপল হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন এবং হত্যাকারী আকাশ মোল্লাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। এ ছাড়া হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কোদালটি আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে বলে জানান এসপি।
এর আগে গতকাল সোমবার রাত ৯টার দিকে জেলা সদরের আলিয়াবাদ ইউনিয়নের গদাধরডাঙ্গী গ্রামে তিনজনকে কোদাল দিয়ে উপর্যুপরি কুপিয়ে হত্যা করেন আকাশ। তিনি ওই গ্রামের হারুন মোল্লার ছেলে। হামলায় তাঁর দাদি আমেনা বেগম ও ফুফু রাহেলা বেগম নিহত হন এবং তাঁদের ডাকচিৎকারে এগিয়ে গেলে প্রতিবেশী রিকশাচালক কাবুল চৌধুরীকেও কুপিয়ে হত্যা করেন।
এ ছাড়া হামলায় রিয়াজুল শেখ ও আরজিনা বেগম নামের আরও দুজন আহত হন। এই ঘটনায় সকালে নিহত কাবুলের স্ত্রী কোহিনুর বেগম বাদী হয়ে আকাশ মোল্লাকে একমাত্র আসামি করে কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেছেন।
হামলাকারী আকাশ মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন কি না সে বিষয়ে পুলিশ সুপার বলেন, ‘আমরা প্রাথমিক তদন্ত ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি, আকাশ মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন এবং মানসিক অসুস্থতার ওষুধ সেবন করতেন। এ ছাড়াও আকাশ ফরিদপুর টিবি হাসপাতালে (সরকারি বক্ষব্যাধি হাসপাতাল ও ক্লিনিক) চাকরি করতেন এবং বিভিন্ন কারণে কয়েক বছর আগে তাঁকে ওখান থেকে চাকরিচ্যুত করা হয়। এর পর থেকে তিনি এলাকায় থাকতেন এবং একা চলাফেরা করতেন। এ ছাড়া আক্রমণকারী হিসেবে এলাকাবাসী তাঁকে এড়িয়ে চলতেন।’
পুলিশ সুপার বলেন, ‘আমরা তাঁকে সুস্থ-স্বাভাবিক দেখেছি, তবে তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন কি না, সেটা চিকিৎসকেরা বলতে পারবেন। তাঁকে যখন গ্রেপ্তার করা হয়, তখন আমাদের কাছে স্বাভাবিকই মনে হয়েছে।’
এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) শামছুল আজম, ফরিদপুর র্যাব ক্যাম্পের দায়িত্বরত সহকারী পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান ও কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।