দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে চাচাতো ভাইকে মারধরের প্রতিবাদ করায় রুহুল আমিন (৩৫) নামে এক রাজমিস্ত্রিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও চারজন। হত্যার বিচারের দাবিতে মরদেহ নিয়ে বিক্ষোভ করেছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।
আজ শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার খয়েরবাড়ী ইউনিয়নের অম্রবাড়ীতে তাঁরা এসব কর্মসূচি পালন করেন। এর আগে গতকাল শুক্রবার রাতে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রুহুল আমিনের মৃত্যু হয়।
জানা গেছে, অম্রবাড়ী গ্রামের সামিউল মুন্সির একটি গরু গোয়ালঘর থেকে বেরিয়ে যায়। শুক্রবার সকালে গরুটি নিয়ে ফুলবাড়ী পৌরবাজারের দিকে যাওয়ার সময় একই গ্রামের খোরশেদকে (২৭) চোর সন্দেহে আটক করেন কয়েকজন। পরে তাঁকে নাউয়ার মোড় এলাকায় নিয়ে মারধর করা হয়। এ সময় খোরশেদের চাচাতো ভাই রুহুল আমিন প্রতিবাদ করলে তাঁকেও বেধড়ক মারধর করা হয়। এতে মাথায় গুরুতর আঘাত পান তিনি।
পরে তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে প্রথমে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে শুক্রবার রাত ১১টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় আহত অন্যরা হলেন খোরশেদ, তাঁর ভাই রাশেদ ইসলাম (৩০), একই গ্রামের রফিকুল ইসলাম (৫০) ও তাঁর ছেলে মহিন আলী (২০)। তাঁরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।
শনিবার বিকেলে নিহতের মরদেহ নিয়ে অম্রবাড়ী নাউয়ার মোড় এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেন স্বজন ও এলাকাবাসী। এ সময় নিহতের ভাই রাশেদ বলেন, ‘আমার ভাইকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি এ হত্যার বিচার চাই। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।’ মামলা না হওয়া পর্যন্ত ভাইয়ের মরদেহ দাফন করবেন না বলেও জানান তিনি।
খয়েরবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. শামিম হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি অত্যন্ত অমানবিক। কেউ অপরাধ করলে তার বিচার করার জন্য দেশে আইন রয়েছে। কারও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া উচিত নয়।’
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের আটকের চেষ্টা চলছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এজাহার পেলে মামলা নেওয়া হবে।