রাজধানীর উত্তর শাহজাহানপুর এলাকার একটি বাসায় অর্পা হাসান (২০) নামে এক কলেজছাত্রী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। আজ শনিবার দুপুরে অচেতন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। উত্তর শাহজাহানপুর আমতলা মসজিদ সংলগ্ন ৩৭৯ নম্বর বাসায় এই ঘটনা ঘটে।
নোয়াখালী জেলার চাটখিল উপজেলার হাসান ইমামের মেয়ে অর্পা। দু'বছর আগে বাবা-মায়ের মধ্যে তালাক হয়ে গেলে মা রুপা আহমেদের সঙ্গে থাকতেন অর্পা।
অর্পার মা রুপা আহমেদ বলেন, তেজগাঁও ন্যাশনাল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের কম্পিউটার সায়েন্সে ২য় বর্ষে পড়াশোনা করত অর্পা। অর্পার বাবা মাদকাসক্ত। দুই বছর আগে তাঁর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। সে বর্তমানে একটি রিহ্যাব সেন্টারে ভর্তি আছে। এরপর থেকে অর্পা মানসিক ভাবে ভেঙে পড়ে।
রুপা জানান, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অর্পাকে বাসায় রেখে বাজারে যান। কিছুক্ষণ পর বাসায় ফিরে অর্পার রুমের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পান। তাঁকে ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যায় না। পরে প্রতিবেশীদের সহায়তায় রুমের দরজা ভেঙে দেখে অর্পা গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছে। তখন অর্পাকে ঝুলন্ত অবস্থা থেকে নামিয়ে স্থানীয় আল বারাকা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
রুপা আহমেদ আরও জানান, গত তিন মাস আগেও সে ২০টি ঘুমের ট্যাবলেট খেয়েছিল। তখন আইসিইউতে ভর্তি ছিল। সবশেষ গত পরশুদিনও সে আবার ঘুমের ওষুধ খায়। তখন তাঁকে ঢাকা মেডিকেল থেকে স্টোমাক ওয়াশ করানো হয়েছিল। সে খুব রাগী ও জেদি প্রকৃতির ছিল। কী কারণে এমন ঘটনা ঘটাতো সে বিষয়ে কিছু জানতে পারিনি।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ বক্সের এএসআই আব্দুল খান মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনাটি শাহজাহানপুর থানা-পুলিশকে জানানো হয়েছে।