পবিত্র ঈদুল আজহার জামাত ও ঈদের ছুটিতে ফাঁকা হয়ে যাওয়া রাজধানীর নিরাপত্তায় সমন্বিত ও প্রযুক্তিনির্ভর বহুমাত্রিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।
ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, জাতীয় ঈদগাহ, বায়তুল মোকাররমসহ রাজধানীর বিভিন্ন ঈদ জামাতে লাখো মুসল্লির সমাগম হবে। একই সঙ্গে ঈদের ছুটিতে নগরীর অনেক আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকা ফাঁকা হয়ে পড়বে। এসব বিবেচনায় নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
আজ বুধবার সকালে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
ডিএমপি কমিশনার জানান, জাতীয় ঈদগাহকে কেন্দ্র করে চার থেকে ছয় স্তরের নিরাপত্তা বলয় গঠন করা হয়েছে। এসবির সুইপিং টিম ও সিটিটিসির ডগ স্কোয়াড (কে-নাইন) দিয়ে ঈদগাহ ও আশপাশের এলাকা তল্লাশি করা হবে। পুরো এলাকা থাকবে সিসিটিভি নজরদারিতে এবং অস্থায়ী কন্ট্রোল রুম থেকে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হবে।
তিনি বলেন, ঈদগাহের প্রবেশপথে আর্চওয়ে, হ্যান্ড মেটাল ডিটেক্টর ও ম্যানুয়াল তল্লাশির ব্যবস্থা থাকবে। মৎস্য ভবন ক্রসিং, প্রেস ক্লাব এলাকা ও হাইকোর্ট ক্রসিংয়ে বিশেষ তল্লাশি ও ব্যারিকেড বসানো হবে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ওয়াচ টাওয়ার ও ড্রোন মনিটরিংও থাকবে।
ডিএমপি কমিশনার আরও বলেন, ইউনিফর্মধারী পুলিশের পাশাপাশি ডিবি ও সিটিটিসির সদস্যরা সাদা পোশাকে দায়িত্ব পালন করবেন। সোয়াট, বোম ডিসপোজাল ইউনিট ও কাউন্টার টেররিজম ইউনিট স্ট্যান্ডবাই থাকবে। নারী মুসল্লিদের জন্য পৃথক প্রবেশপথ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
তিনি মুসল্লিদের পর্যাপ্ত সময় হাতে নিয়ে ঈদগাহে আসা, নিরাপত্তা তল্লাশিতে সহযোগিতা করা এবং ব্যাগ, ধারালো বস্তু বা দাহ্য পদার্থ সঙ্গে না আনার অনুরোধ জানান। সন্দেহজনক কিছু দেখলে ৯৯৯-এ জানানোর আহ্বানও জানান তিনি।
ডিএমপি জানিয়েছে, ঈদের ছুটিতে ফাঁকা ঢাকার নিরাপত্তায় মোবাইল, ফুট ও মোটরসাইকেল পেট্রল জোরদার করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। ব্যাংক, এটিএম বুথ, শপিংমল ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বাড়ানো হয়েছে নজরদারি।
এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপপ্রচার ঠেকাতে ডিএমপির সাইবার ইউনিট সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাচ্ছে বলেও জানিয়েছেন কমিশনার।