হোম > সারা দেশ > ঢাকা

প্রকল্প থমকে আড়াই বছর বেতন নেই ১১ মাস

সাইফুল মাসুম, ঢাকা 

আড়াই বছর ধরে থমকে রয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) কৃষি যান্ত্রিকীকরণের প্রকল্প। গত ১১ মাস বেতন পাচ্ছেন না প্রকল্পটির ৭৭ কর্মকর্তা-কর্মচারী। অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে প্রশ্নবিদ্ধ প্রকল্পটির সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মন্ত্রণালয়ের অসহযোগিতার কারণে টাকা থাকা সত্ত্বেও সারা দেশে এর কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্প তাঁদের গলার কাঁটায় পরিণত হয়েছে। বিগত সরকারের আমলে প্রকল্পটি এত বেশি অনিয়ম দুর্নীতিতে ডুবে ছিল যে তার থেকে এখনো বের হতে পারেনি। এই প্রকল্পের দুর্নাম কৃষির অন্য প্রকল্পগুলোতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

বেতন বন্ধ থাকার বিষয়ে প্রকল্পের সিনিয়র মনিটরিং অ্যান্ড ইভালুয়েশন অফিসার মো. ইখলাস আশরাফ বলেন, ‘প্রকল্পে বরাদ্দ বন্ধ থাকায় প্রায় এক বছর ধরে বেতন পাচ্ছি না। প্রকল্পের কর্মীরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।’

গত ২৯ জুন রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে প্রকল্পটির দপ্তরে গিয়ে দেখা যায়, কর্মীরা অলস সময় পার করছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেল, প্রকল্পটি নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ থাকায় বিশেষ অডিট চলছে। প্রকল্পের কার্যক্রম নিয়ে প্রকল্প পরিচালক মো. মঞ্জুর-উল আলমের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি ব্যস্ততার কথা বলে এড়িয়ে যান।

কৃষিতে আধুনিক যন্ত্রের ব্যবহার বাড়াতে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার ‘সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্প’ হাতে নিয়েছিল বিগত সরকার। পাঁচ বছর মেয়াদি এ প্রকল্পে কৃষকদের ভর্তুকি দামে ১২ ধরনের ৫১ হাজার ৩০০টি কৃষিযন্ত্র দেওয়ার কথা ছিল। তবে বহু প্রকৃত কৃষক সরকারের এ ভর্তুকির সুবিধা পাননি। দুর্নীতি-অনিয়মে জড়িত থাকায় প্রকল্পের সাবেক পরিচালকসহ আট কর্মকর্তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ প্রকল্পের অনিয়ম নিয়ে এখনো দুদকসহ রাষ্ট্রীয় একাধিক সংস্থা তদন্ত করছে।

প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতি নেই

২০২৪-২৫ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি অনুসারে এ প্রকল্পে বরাদ্দ ধরা হয়েছিল ৫০৮ কোটি টাকা। সেই সময় প্রকল্পের প্রায় ১০০ কোটি টাকা ব্যয় করে বাকি ৪০০ কোটি টাকা মন্ত্রণালয়ে ফেরত পাঠানো হয়। ১০০ কোটি টাকা ব্যয় হলেও সে বছর প্রকল্পের উন্নয়ন কার্যক্রম হয়নি। যন্ত্র সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের বকেয়া পরিশোধ আর তদন্তকারী সংস্থাকে তথ্য দিতে ব্যস্ত ছিলেন কর্মকর্তারা।

২০২৫ সালে এক সভায় শর্ত সাপেক্ষে প্রকল্পের মেয়াদ আরেক বছর বাড়িয়ে অবশিষ্ট টাকা ব্যয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গত বছরের শুরুর দিকে প্রকল্প কার্যালয়ে অস্থিরতাসহ বিভিন্ন কারণে আর প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়নি। আবার কার্যক্রমও শেষ করা হয়নি। ফলে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতি শূন্য।

জানা গেছে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সরকার বদলের পর প্রকল্পটি নিয়ে শুরু হয় নতুন ধরনের বিপত্তি। বিএনপিপন্থী পরিচয়ে কয়েক কর্মকর্তা তৎকালীন পিডি মোহাম্মদ সফিউজ্জামানসহ প্রকল্পের অন্য কর্মকর্তাদের অফিস ছেড়ে যেতে হুমকিধমকি দেন। হুমকি দেওয়া কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে ছিলেন বর্তমান পিডি মঞ্জুর-উল-আলম। প্রকল্পের তৎকালীন পিডি ও দুই ডিপিডিকে (উপপ্রকল্প পরিচালক) একটি হত্যা মামলাসহ দুটি ‘রাজনৈতিক মামলায়’ আসামি করা হয়। নতুন পিডি মঞ্জুর-উল-আলম দায়িত্ব নেওয়ার পর দুই ডিপিডিসহ পাঁচ কর্মকর্তাকে অফিস ছাড়তে বাধ্য করা হয়।

প্রকল্পের মেয়াদ বাড়াতে তৎপরতা

দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশন পর্যালোচনা করে প্রকল্প বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আব্দুর রহিম আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘এই প্রকল্পে যাঁরা অনিয়ম দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত, তাঁরা অনেকে শাস্তির আওতায় এসেছেন। অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে আইনি কার্যক্রম নিজ গতিতে চলবে।’ তিনি বলেন, ‘প্রকল্পটির মেয়াদ এক বছরের জন্য বাড়ানোর কথা রয়েছে। এটা হলে কর্মীদের বেতনের সমস্যা কাটবে।’

রাজধানীতে বুলডোজারচাপায় প্রাণ গেল অজ্ঞাতনামা নারীর

চট্টগ্রাম বন্দর ইজারার প্রতিবাদে শাহবাগে সমাবেশ, মশাল মিছিল

বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচের জেরে আদাবরে বিএনপি নেতা খুন, গ্রেপ্তার ৩

রাজধানীতে পৃথক স্থানে বিদ্যুতায়িত হয়ে দুই কর্মচারীর মৃত্যু

কামরাঙ্গীরচর থেকে নিখোঁজ পাটগ্রামের কিশোর লিমন, ২০ দিনেও মেলেনি সন্ধান

জামিন পেয়েও কারামুক্তি আটকে গেল সাবেক প্রধান বিচারপতির, আরেক মামলায় গ্রেপ্তার আবেদন

বৃক্ষরোপণ ও ভূমিকম্প ঝুঁকি মোকাবিলায় ডিএসসিসির বিশেষ কমিটি

কদমতলীতে ব্যবসায়ীকে হত্যাচেষ্টা মামলার প্রধান আসামি ‘শুটার মহিন’ গ্রেপ্তার

স্বামীকে হত্যার পর দেহ ৬ খণ্ড করে গুম, স্ত্রীকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুর রায়

রিমান্ড শেষে কারাগারে নীলফামারী-৩ আসনের সাবেক এমপি আশিকা