রাজধানীর কল্যাণপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বগুড়া থেকে ঢাকায় আসা শফিক নামের এক যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যার দায়ে দুজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ রোববার ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোসাদ্দেক মিনহাজ এই রায় ঘোষণা করেন।
যে দুজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, তাঁরা হলেন মো. সোহেল রানা ওরফে কালু ও মো. নাজিম উদ্দিন ওরফে নাজিম ওরফে নজু। মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
আদালতের অতিরিক্ত পিপি মো. খলিলুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
রায় ঘোষণার সময় আসামিরা পলাতক থাকায় তাঁদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
আদালত রায় বলেছেন, আসামিরা গ্রেপ্তার হওয়ার পর এই রায় কার্যকর হবে। তাঁদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। তবে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য হাইকোর্টের অনুমোদন নিতে হবে বলেও রায়ে বলা হয়েছে।
রায়ে আদালত বলেছেন, আসামিরা পেশাদার অপরাধী। তাঁদের বিরুদ্ধে অস্ত্র, বিস্ফোরক ও মাদকের একাধিক মামলা রয়েছে। ছিনতাই করতে গিয়ে এক যুবককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি আঘাতের মাধ্যমে নির্মমভাবে খুন করা হয়েছে। এই অপরাধ ক্ষমার অযোগ্য। এই অপরাধে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডই তাঁদের একমাত্র প্রাপ্য।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০০৫ সালের ২২ জুন ভোরে বগুড়া থেকে বাসে ঢাকায় এসে কল্যাণপুর বাসস্ট্যান্ডে নামেন শফিক। এশিয়া সিনেমা হলের সামনে পৌঁছালে তিন ছিনতাইকারী তাঁর পথ রোধ করে টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। বাধা দিলে তাঁকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহত শফিকের বাবা মো. আকবর আলী বাদী হয়ে মিরপুর মডেল থানায় মামলা করেন। মামলার পর আসামি মো. সোহেল রানা ওরফে কালুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর তিনি হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন। পরে তিনি জামিন নিয়ে পলাতক থাকেন।
২০০৬ সালের ৫ এপ্রিল মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মিরপুর মডেল থানার পরিদর্শক মো. রেজাউল করিম আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। একই বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। মামলা বিচারকালে ১৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ৯ জনের সাক্ষ্য নেন আদালত।