আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) ও ডিপফেক প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ভুয়া বিজ্ঞাপন তৈরি করে যৌন উত্তেজক ওষুধ বিক্রির সঙ্গে জড়িত একটি চক্রের ১০ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পল্টন মডেল থানা-পুলিশ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. সারাফাত হোসেন, সাফায়েত হোসেন শুভ, তৌকি তাজওয়ার ইলহাম, তাকিবুল হাসান, আব্দুল্লাহ আল ফাহিম, মিনহাজুর রহমান শাহেদ, শাহামান তৌফিক, ইমন হোসেন বিজয়, অমিদ হাসান এবং মো. ইমরান।
পুলিশ জানায়, ২৩ এপ্রিল রাতে চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী থানার শেরশাহ কলোনি এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রথম ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন রাজধানীর মোহাম্মদপুরের চন্দ্রিমা মডেল টাউন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় অপর আসামি ইমরানকে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি নিজের নামে প্রচারিত একটি ভুয়া ভিডিও দেখতে পান ইসলামি বক্তা ড. মিজানুর রহমান আজহারী। পরে তিনি ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক করে পোস্ট দেন। এই ঘটনায় গত ২৫ ফেব্রুয়ারি পল্টন মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়। পরে ভুক্তভোগী ব্যক্তির পক্ষে বিল্লাল হোসেন (৫৭) আমমোক্তারনামা নিয়ে অভিযোগ দায়ের হলে সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর ২২ ও ২৭ ধারায় মামলা রুজু করা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে ফেসবুকসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ডিপফেক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভুয়া ভিডিও তৈরি করে ভেষজ ওষুধসহ নানা পণ্যের বিজ্ঞাপন প্রচার করে আসছিল। এসব ভিডিও এমনভাবে তৈরি করা হতো, যাতে মনে হয় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাই এসব পণ্যের প্রচার করছেন।
পুলিশ জানায়, ড. মিজানুর রহমান আজহারী, ডা. তাসনিম জারা ও ডা. জাহাঙ্গীর কবিরসহ পরিচিত ব্যক্তিদের কণ্ঠ ও চেহারা নকল করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করা হতো। এর মাধ্যমে চক্রটি অবৈধভাবে আর্থিক লাভবান হওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সুনাম ক্ষুণ্ন করছিল।
অভিযানে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে ১১টি ল্যাপটপ, ৪৭টি স্মার্টফোন, ২টি পেনড্রাইভ, ২১টি সিমকার্ড এবং বিপুল পরিমাণ অবৈধ যৌন উত্তেজক ওষুধ জব্দ করা হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা সংঘবদ্ধ প্রতারণা চক্রের সক্রিয় সদস্য বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।