জুলাই আন্দোলনে দেলোয়ার হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে ফের তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মনিরুল ইসলাম তাঁকে রিমান্ডে নেওয়ার নির্দেশ দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত পিপি শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এই মামলায় ১১ এপ্রিল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল। এক-এগারোর আলোচিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে আবার সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির এসআই কফিল উদ্দিন। শুনানি শেষে আদালত তিন দিন রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রিমান্ড আবেদনে তদন্তকারী কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, ১১ এপ্রিল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়। তিনি সুস্থ হলে আজ সোমবার (২৭ এপ্রিল) তাঁর বিভিন্ন শারীরিক পরীক্ষা শেষে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ছাড়পত্র দেয়। তাঁকে আদালতে নিয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন, তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে, যা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তাঁকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
এর আগে ৭ এপ্রিল এই মামলায় তাঁকে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেলে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকায় ছাত্র আন্দোলনের মিছিলে অংশ নেওয়ার সময় দেলোয়ার হোসেনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। অভিযোগ করা হয়েছে, আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মী ও অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসীরা আন্দোলনকারীদের ওপর অতর্কিতে হামলা চালায়।
ঘটনাস্থলে গুরুতর আহত দেলোয়ার হোসেনকে প্রথমে জাতীয় হৃদ্রোগ ইনস্টিটিউটে এবং পরে শ্যামলীর সিটি কেয়ার জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০ জুলাই মারা যান তিনি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের সরকার পতনের পর ২০২৫ সালের ৬ এপ্রিল নিহতের স্ত্রী মোসা. লিজা আক্তার এ ঘটনায় হত্যা মামলা করেন।
উল্লেখ্য, গত ২৩ মার্চ গভীর রাতে রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকার ২ নম্বর লেনের ১৫৩ নম্বর বাড়ি থেকে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর ২৪ মার্চ রাজধানীর পল্টন থানায় করা মানব পাচার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। ২৯ মার্চ একই মামলায় তাঁকে দ্বিতীয় দফায় ছয় দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। ৪ এপ্রিল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে একই মামলায় তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। পল্টন থানায় করা মানব পাচার মামলায় টানা ১৪ দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে।
এরপর মিরপুর থানায় করা এই হত্যা মামলায় তাঁকে দুই দফা রিমান্ডে নেওয়া হয়। এবার আবার তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হলো। গ্রেপ্তারের পর এ নিয়ে মোট ছয় দফা রিমান্ডে নেওয়া হলো সাবেক এই প্রভাবশালী সেনা কর্মকর্তাকে।