গাজীপুরের শ্রীপুরে তালাবদ্ধ ঘর থেকে মা ও শিশুপুত্রের লাশ উদ্ধারের পর চার দিন পেরিয়ে গেলেও মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। গত ৭ জানুয়ারি সন্ধ্যায় এই দুজনের লাশ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় নিহত গৃহবধূর স্বামীকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গত সোমবার হত্যা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদে কী ধরনের তথ্য মিলেছে, সে বিষয়ে গণমাধ্যমকে কিছু জানায়নি পুলিশ।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করা যায়নি। রহস্য উদ্ঘাটিত হলে গণমাধ্যমকর্মীদের ডেকে বিস্তারিত জানানো হবে। তবে আশা করছি, দ্রুততম সময়ের মধ্যে রহস্য উদ্ঘাটনসহ অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।’
গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. শাফী মোহাইমেন আজ বুধবার দুপুরে আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘মা ও শিশুকে হত্যার আলামত পেয়েছি। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয়ের জন্য রাসায়নিক পরীক্ষাগারে আলামত পাঠানো হয়েছে। রাসায়নিক পরীক্ষার প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে মৃত্যুর কারণ বলা যাচ্ছে না।’
গত ৭ জানুয়ারি সন্ধ্যায় শ্রীপুর উপজেলার কেওয়া পশ্চিমখণ্ড গ্রামের মসজিদ মোড় এলাকার একটি তালাবদ্ধ ঘর থেকে রুবিনা ও তাঁর শিশুপুত্র জিহাদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। লাশ উদ্ধারের সময় বিরিয়ানির প্যাকেট পড়ে ছিল, যার কিছু ছিল খোলা। পরদিন রোববার রাতে নিহতের বাবা সিরাজ মিয়া বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে শ্রীপুর থানায় মামলা করেন। ৯ জানুয়ারি সোমবার ওই মামলার সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে নিহতের স্বামী ঝুমন মিয়াকে আটকের পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
নিহত রুবিনা আক্তার (২২) শ্রীপুর পৌরসভার কেওয়া পশ্চিমখণ্ড গ্রামের মসজিদ মোড় এলাকার সিরাজ মিয়ার মেয়ে এবং মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার হোগলারমাঠ এলাকায় ঝুমন মিয়ার স্ত্রী। মায়ের লাশের পাশ থেকে ছেলে জিহাদের (৪) লাশ উদ্ধার করা হয়। ঝুমন মাওনা এলাকায় ভাড়া থেকে রঙ্গীলা বাজারে ওয়ার্কশপে কাজ করতেন।