রাজধানীর উত্তরায় লরিচাপার ঘটনায় ট্রাফিক পুলিশ কনস্টেবল কাজী মাসুদের (৩৮) পর এবার বাস কাউন্টারের লাইনম্যান জাহাঙ্গীর আলমের (২৭) মৃত্যু হয়েছে। আজ রোববার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরের উত্তরা লেক ভিউ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
হাসপাতালটির ম্যানেজার মো. মোস্তফা কামাল আজকের পত্রিকাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, আব্দুল্লাহপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে ভোর ৪টা ২১ মিনিটে জাহাঙ্গীর আলমকে ভর্তি করানো হয়েছিল। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জাহাঙ্গীর আলম সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মৃত্যুবরণ করেছেন।
নিহত ওই ব্যক্তি ময়মনসিংহ জেলার কোতোয়ালি উপজেলার মাঝিহাটি গ্রামের ফয়জুদ্দিনের ছেলে। বর্তমানে আব্দুল্লাহপুরের বাদশা ক্ল্যাসিক কাউন্টারের লাইনম্যান হিসেবে কাজ করতেন। সেই সঙ্গে পরিবার পরিজনের সঙ্গে সাভারের আশুলিয়ার কাঠগড়া এলাকার আনোয়ার মোল্লার ভাড়া বাড়িতে থাকতেন। জাহাঙ্গীরের এক কন্যা সন্তান রয়েছে।
এর আগে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উত্তরার আব্দুল্লাহপুরের টঙ্গী ব্রিজের ১০০ গজ দক্ষিণপাশে গতকাল শনিবার রাত ৩টা ২০ মিনিটের সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে ট্রাফিক পুলিশ কনস্টেবলকে উত্তরা আধুনিক মেডিকেল নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ভোর ৪টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত জাহাঙ্গীর বোন আফরোজা আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘সাড়ে ৩টার দিকে আমার ভাই জাহাঙ্গীরের এক্সিডেন্টের খবর পাইছি। পরে আমরা কাঠগড়া থেকে সাড়ে ৫টার দিকে আসছি। পরে আমার ভাইকে আমায় মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে বললে আমি দিই। তারপর ভাবিকে ভাইয়ের পাশে রেখে আমি ওষুধের জন্য যাই।’
আফরোজা বলেন, ‘ওষুধ নিয়ে যাওয়ার পর দেখি সেখান থেকে ওর বউরেও বাইর কইর্যা দিছে। তার আধা ঘণ্টা পর এক মহিলা ডাক্তারনি আইছে। আইসা বলে-আমার ভাইয়ের অবস্থা খুবই খারাপ। তারে মেশিনে ঢোকানো লাগব, ঢুকাইলে ভালা অইবো। এরপর আবার একটা সাদা কাগজ নিয়া আইয়া বলতাছে-এইড্যাতে সাইন করতে অইবো। তখন আমি বলছি, আধা ঘণ্টা আগে আমি আমার ভাইয়ের সাথে কথা বলছি ভালা। এই আধা ঘণ্টার মধ্যে কি হইয়্যা গেছে, আমার ভাই বাঁচতো না। তখন ওই ডাক্তারনি আমার আর আমার ভাই বউয়ের সাথে এত বাজে ব্যবহার করছে যে মনে হইছে আমাদেরকে মারব। এর কিছুক্ষণ পরেই ভাইয়ের মরার খবর আইছে।’
লেক ভিউ হাসপাতালে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর খবর পেয়ে আগত উত্তরা পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শুভংকর আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘খবর পেয়ে সকাল ১০টার দিকে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে আসা হয়। পরে সুরতহাল রিপোর্ট শেষে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।’