রাজধানীতে রিকশা, অটোরিকশা ও ভ্যান চলাচল বন্ধ করার কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। তিনি বলেছেন, শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তুলতে রিকশা ও অটোরিকশাকে লাইসেন্সের আওতায় আনা হবে।
আজ সোমবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী রিকশা, ভ্যান ও অটোচালক দল এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে ডিএসসিসি প্রশাসক আবদুস সালাম বলেন, ঢাকা শহরে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি চলতে পারে না। রিকশা, অটোরিকশা কিংবা ভ্যান বন্ধ করার কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে এসব যানবাহনকে অবশ্যই নিয়ম ও শৃঙ্খলার আওতায় আনতে হবে।
আবদুস সালাম আরও বলেন, যেভাবে হকারদের একটি সুশৃঙ্খল ব্যবস্থার মধ্যে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে, একইভাবে রিকশা, ভ্যান ও অটোরিকশাকেও নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে। যে কেউ বাইরে থেকে এসে ঢাকা শহরে রিকশা চালানো শুরু করলে তা কোনো শৃঙ্খলার মধ্যে পড়ে না। যে এলাকার চালক, তাঁকে সেই এলাকায়ই পরিবহন চালাতে হবে। এর মাধ্যমে নগর পরিবহনব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।
রিকশা ও অটোরিকশাকে লাইসেন্সের আওতায় আনা গেলে যানজট কমবে এবং চালকদের পরিচয় ও কার্যক্রম সুনির্দিষ্ট হবে বলে জানান তিনি।
ব্যাটারিচালিত রিকশা প্রসঙ্গে প্রশাসক বলেন, এসব যানবাহনের নিরাপত্তা নিয়ে অনেকের উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে ব্রেকিং ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে। তাই নিরাপত্তা নিশ্চিত করে কীভাবে ব্যাটারিচালিত রিকশা চালানো যায়, সে বিষয়ে চালকদের মতামতও নেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অত্যন্ত মানবিক উল্লেখ করে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, তাঁর নির্দেশনা হলো রিকশা, ভ্যান ও অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করা কাউকে উচ্ছেদ করা যাবে না। তাঁদের জীবিকার বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই শৃঙ্খলাপূর্ণ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বিদ্যমান সমস্যার সমাধান করতে হবে।
সড়কে শৃঙ্খলা আনতে ইলেকট্রনিক ট্রাফিক সিগন্যাল ও স্বয়ংক্রিয় জরিমানার ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। একই ধরনের ব্যবস্থা রিকশা ও অটোরিকশার ক্ষেত্রেও চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এ বিষয়ে চালক সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে বলে জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে অধ্যাপক আশফাকুল ইসলাম মনুর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এ ছাড়া বিএনপির স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপুসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।