রাজধানীর বনানী থানার অস্ত্র আইনের মামলায় সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়ে আগামী ২১ জুন ধার্য করা হয়েছে। আজ রোববার ঢাকা মহানগর বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক মঈন উদ্দিন চৌধুরী শুনানির নতুন তারিখ ধার্য করেন।
আজ অভিযোগ গঠন বিষয়ে শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল। কিন্তু আনিসুল হকের আইনজীবী ব্যারিস্টার সুমন হোসেন শুনানি পিছিয়ে দেওয়ার জন্য আবেদন করেন।
আবেদনে আইনজীবী বলেন, আওয়ামী সরকারের পতনের পর সাবেক আইন মন্ত্রীর বাড়ি লুট হয়। তাঁর বৈধ অস্ত্র ছিল। সেটিও লুট হয়। তাঁর পক্ষ থেকে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হয়েছে। অস্ত্রের বিষয়ে ‘ডকুমেন্ট কালেক্ট’ করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে শুনানির জন্য সময় প্রয়োজন। ট্রাইব্যুনাল আবেদন মঞ্জুর করেন।
ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী গোলাম নবী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গত বছর ২৪ মে বনানী থানায় অস্ত্র মামলাটি দায়ের করেন ওই থানার এসআই মো. জানে আলম দুলাল। সম্প্রতি এবং অভিযোগপত্র দেওয়ার পর মামলাটি বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনালে বদলি করা হয়।
মামলায় বলা হয়েছে, আনিসুল হক বনানী থানার অধীনে নিজের নামে লাইসেন্সপ্রাপ্ত একটি পিস্তলের মালিক। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য দেওয়া সকল আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স স্থগিত করে ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অস্ত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়।
কিন্তু আনিসুল হক ২০২৫ সালের ৫ মে পর্যন্ত তাঁর লাইসেন্সকৃত অস্ত্রটি থানায় জমা দেননি বা থানাকে অবহিতও করেননি। তাঁর ঠিকানায় গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি এবং অস্ত্র জমা সম্পর্কে কোনো তথ্য মেলেনি। তিনি গুলি কিনেছেন, এমন তথ্যও পাওয়া যায়নি।
ফলে ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনের ১৯ (১) ধারায় অপরাধ করেছেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।
উল্লেখ্য, গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আট দিনের মাথায় ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট রাজধানীর সদরঘাট এলাকা থেকে আনিসুল হককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর বিভিন্ন হত্যা, হত্যাচেষ্টা মামলায় তাঁকে রিমান্ডে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।