টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থানার বাঁশতৈল পুলিশ ফাঁড়ি হাজতে লেবু মিয়া (৫০) নামে এক হত্যা মামলার আসামির মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সোমবার রাতের কোনো এক সময়ে হাজত খানার টয়লেটের রডের সঙ্গে গলায় রশি পেঁচিয়ে তিনি আত্মহত্যা করে বলে দাবি পুলিশের। তবে নিহত লেবু মিয়ার পরিবারের দাবি, আত্মহত্যা নয়, তাঁকে পুলিশ নির্যাতন করে হত্যা করেছে।
এ ঘটনায় মির্জাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আমিনুল ইসলাম বুলবুল থানা হাজতে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির সময় উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, ‘ওই ব্যক্তিকে হাজতে ফাঁস লটকানো অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়। তাঁর গায়ে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।’
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) সরকার মোহাম্মদ কায়সার জানিয়েছেন, ওই ফাঁড়ির দায়িত্বরত কনস্টেবলকে টাঙ্গাইল পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। সেই সঙ্গে এ ঘটনায় টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মীর মনির হোসেনকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশ হেফাজতে লেবু মিয়া মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষী পুলিশ সদস্যদের শাস্তির দাবি জানিয়ে গোড়াই-সখিপুর সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ ও বিক্ষোভ করে এলাকাবাসী। সড়কের বাঁশতৈল বাজার এলাকায় ঘণ্টাব্যাপী এই অবরোধ চলে। এ সময় সড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে ওই সড়কে চলাচলকারী যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েন।
খবর পেয়ে টাঙ্গাইলের সহকারী পুলিশ সুপার (সখিপুর সার্কেল) এসএম রকিবুল হাসান ঘটনাস্থলে গিয়ে সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাস দিলে এলাকাবাসী অবরোধ তুলে নেয়। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতাকে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করার কথাও জানান তিনি।
জানা গেছে, সোমবার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার বাঁশতৈল ইউনিয়নের পশ্চিমপাড়া গ্রামে নিজের বাড়ি থেকে সখিনা বেগম (৪২) নামে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করে বাঁশতৈল ফাঁড়ির পুলিশ। রোববার রাতে ওই নারী বাড়িতে একা থাকার সুযোগে কে বা কারা তাঁকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। তবে এই ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে সোমবার দুপুরে পুলিশ মৃত সখিনার সাবেক স্বামী বাঁশতৈল গ্রামের মফিজুর রহমান এবং ওই নারীর ‘প্রেমিক’ লেবু মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে। পরে রাত সাড়ে এগারোটায় সখিনার ভাই বাদশা মিয়া বাদী হয়ে মফিজুর রহমান ও লেবু মিয়ার নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আসামি করে মির্জাপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
লেবু মিয়ার ভাতিজা সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘হাজতখানায় কীভাবে রশি গেল? নির্যাতন করে আমার চাচাকে হত্যার করে, পুলিশ এখন নাটক বানাচ্ছে। আমরা সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষী পুলিশ সদস্যদের শাস্তির দাবি জানাই।’
এ বিষয়ে মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আবু সালেহ মাসুদ করিম বলেন, ‘বাঁশতৈল ফাঁড়ি হাজতে থাকা লেবু মিয়া রাতের কোনো এক সময়ে টয়লেটের ভেন্টিলেটর রডের সঙ্গে নাইলনের রশি দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। এ ঘটনায় টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে।’
এ ঘটনায় টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার বলেন, ‘পুলিশের নামে অভিযোগ আসবে বলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সুরতহাল রিপোর্ট করা হয়েছে। সুরতহাল ও পোস্টমর্টেমের রিপোর্ট আসবে। যদি পুলিশের কোনো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়, তবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’